
বাতাসের শিরশিরানি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। অগ্রহায়ণ থেকে পৌষের দিকে ক্যালেন্ডারের যাত্রায় বাড়ছে শীতের কাঁপুনি।
আর রাজনীতির ক্যালেন্ডারে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে অন্যরকম শিরশিরানি নেতা নেত্রীদের কাঁপিয়ে দিতে চলেছে। তবে কি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডি জোট বা মহাগটবন্ধন ছেড়ে বি জে পি -র এন ডি এ -র হাত ধরতে চলেছেন ? শীতেই কি হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পালাবদল ?
সংখ্যার বিচারে ৮১ আসনের ঝাড়খন্ড বিধানসভায় হেমন্ত সোরেনের ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা বা জেএমএম-র বিধায়ক রয়েছে ৩৪ জন। আর ইন্ডি জোট ধরলে সংখ্যাটা ৫৬। তুলনায় বি জে পি ২১ আর এনডিএ হিসাবে ২৪। কিন্তু ভোট বিচারে বি জে পি -র দখলে ৩৩.১৮ % ভোট। সেখানে জেএমএম -র ভোট ২৩.৪৪ % ।
ভোট হয়েছিল গতবছর নভেম্বর মাসে। আর তার ঠিক এক বছরের মধ্যে কেন হেমন্ত সোরেনকে রাজনীতির পালাবদলের কথা ভাবতে হচ্ছে ?
উত্তর আছে ,বি জে পি -র ২০২৪-র ঝাড়খন্ড বিধানসভা নির্বাচনে তোলা ভোটের স্লোগানে। অনুপ্রবেশ ,লাভ জিহাদ আর ভূমি জিহাদ -র কথা বলেছিল বি জে পি। যার মধ্যে তিনটে স্লোগানই একে অপরের সঙ্গে মিলেছিল। অভিযোগ ,অনুপ্রবেশকারীরা ,আদিবাসী অধ্যুষিত ঝাড়খণ্ডের জনবিন্যাস শুধু বদলে দিচ্ছে না ,আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্যে অস্তিত্বের সংকট তৈরি করছে। প্রথমে অনুপ্রবেশ ,তারপর স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে সম্পর্ক এবং তারপর আবাস এবং সম্পত্তির জন্যে থাবা বসাচ্ছেন আদিবাসীদের জন্যে স্বীকৃত জমিতে। যাকে বি জে পি ,ভূমি জিহাদ হিসাবে প্রচার করেছিল।
ফিরে তাকালে দেখা যাচ্ছে ,১৯৭৫ -এ কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃত প্রিমিটিভ ট্রাইবাল গ্রুপ এবং হাইলি মারজিনাল্যাজডি গ্রুপ হিসাবে ঝাড়খণ্ডে ছিল ৫২ টি গোষ্ঠী। ১৯৯৩ -তে যোগ হয় আরও ২৩ টি গোষ্ঠী ,যাঁরা নগরায়নের বিপদের মধ্যে ছিলেন। আর ২০০৬ -তে সাব ক্যাটাগরির পরিবর্তন হলে আরও স্পষ্ট হয় কি ভয়ানক অস্তিত্বের সংকটে রয়েছেন ঝাড়খণ্ডের আদি জনগোষ্ঠী। যে জনগোষ্ঠী ,পৃথক রাজ্য গঠনের পর থেকে হেমন্ত সোরেন বা তাঁর বাবা ,শিবু সোরেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ,ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চাকে।
কিন্তু দিন বদলে জে এম এম নেতৃত্বের দুর্নীতির বিষয়টি ক্রমেই স্পষ্ট এবং উন্নয়ন অবহেলিত পরিষ্কার হয়ে যায় আদিবাসী জনজাতি গোষ্ঠীর তরুণ প্রজন্মের কাছে। তারসঙ্গে যুক্ত হয় ,অনুপ্রবেশ। ক্রমেই ,নিজ ভূমে পরবাসে চলে যাচ্ছিলেন ঝাড়খণ্ডের লুপ্তপ্রায় আদিবাসী গোষ্ঠী বা পি ভি টি -জি। বিরসা মুন্ডার উত্তরসূরিরা বিপদ বুঝতে পারাতেই প্রমাদ গুনতে হচ্ছে কিছুদিন আগেও দুর্নীতির দায়ে জেল ঘুরে আসা হেমন্ত সোরেনদের।
মাথার ওপর ছাদ ,নিরাপদ জল ,শিক্ষা ,স্বাস্থ্য ,যোগাযোগ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ,যে স্লোগান তুলে আদিবাসীদের এককাটা করেছিলেন ,তাদের গুরুজী ,শিবু সোরেন ,বছর ঘুরতেই মোহভঙ্গের গল্পটা দীর্ঘ হচ্ছে। ৩ বছর আদিবাসীদের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার দিয়েছে ২৪ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতোই সেই টাকার হিসাব দেওয়া নিয়ে অস্বস্তিতে ঝাড়খন্ড। এবং মুখ্যমন্ত্রী ,হেমন্ত।
কিন্তু রাজনীতিতে হাওয়া মোরগ হিসাবে পরিচিত ,ঝাড়খণ্ডের এই সোরেন পরিবার। বুঝতে পারছেন ,আদিবাসীদের হাওয়া ঘুরছে ,এক বছরেই। আর শীতের হাওয়াতেই হেমন্তের পালাবদলের গল্প এবং জল্পনা দীর্ঘ হচ্ছে।









