
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা উপনির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দৃশ্যে এক নতুন মোড় এসেছে। সবুজ ঝড়ে বাম-কংগ্রেসের পাশাপাশি বিজেপিরও জমানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল ভোটের সংখ্যা নয়, বরং দলের ভবিষ্যৎ এবং রাজনীতিতে তাদের অবস্থানকে চিহ্নিত করে। চলুন, বিস্তারিতভাবে জানি কী ঘটেছে।
সিতাইয়ের নির্বাচনে বিজেপি মাত্র ১৬ শতাংশ ভোট পেয়ে কিছুটা সান্ত্বনা পেলেও, কংগ্রেস ও ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাপ্ত ভোট ছিল যথাক্রমে ৪ এবং ২ শতাংশ। উত্তরবঙ্গের মাদারিহাট কেন্দ্রে কংগ্রেস ও আরএসপির প্রাপ্তি ছিল মাত্র ২ শতাংশ। নৈহাটিতে সিপিআইএমএল ৬ শতাংশ এবং কংগ্রেস পেয়েছে ৩ শতাংশ ভোট—এই পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী দলগুলো এখন কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
হাড়োয়াতেও একই চিত্র দেখা গেছে; সেখানে আইএসএফ পেয়েছে ১৩ শতাংশ ভোট, বিজেপি পেয়েছে ৭ শতাংশ এবং কংগ্রেস মাত্র ২ শতাংশে আটকে গেছে। মেদিনীপুরে সিপিআইয়ের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৬ শতাংশ, যেখানে কংগ্রেস আবারও পিছিয়ে পড়ে মাত্র ২ শতাংশ নিয়ে। তালডাংরায় সিপিআইয়ের প্রাপ্ত ভোট দাঁড়িয়েছে ১০ শতক—যেখানে কংগ্রেস একেবারে হতাশাজনকভাবে শুধুমাত্র একটি শতক পেতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতি কেন্দ্রে নির্বাচনের সময় যত সংখ্যক ভোট পড়ে তার অন্ততঃ ১৬% পেতে হয় রাজনৈতিক দলের জন্য নিজেদের জমানত রক্ষা করতে। এই নিয়ম অনুযায়ী যদি তারা সেই সংখ্যার নিচে চলে যায় তবে তাদের জমা করা অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। ফলে দেখা যাচ্ছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাম-কongres-এর পাশাপাশি বিজেপিও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে।
এই নির্বাচন শুধু একটি ফলাফল নয়; এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির গতিবিধিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে সকলকে। আগামী দিনে কি হবে তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে!
ছবি ক্রেডিট: উজ্জ্বল সেনগুপ্ত






