গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

29 C
Kolkata
29 C
Kolkata
More
    Home Lifestyle সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর সময় ভুল

    সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর সময় ভুল

    0
    104
    ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    সকালের সময়টা মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি কেটে যায়।আর এটা পুরোপুরি টের পান মায়েরা।সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘর পরিষ্কার,ব্রেকফাস্ট তৈরি থেকে হাঁড়ি পাতিল পরিষ্কার,কোনদিক দিয়ে যে সময় কেটে যায়, তা টেরই পান না তারা।এর মধ্যে এসে যায় সন্তানকে রেডি করে স্কুলে পাঠানো।সকালের এমন তাড়াহুড়ো কাজ করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেন মায়েরা।

    এসব করতে করতে অনেক সময় তারা রেগেও যান। তবে সবকিছুতে তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়।যেমন সন্তানের সামনে তাড়াহুড়ো দেখানো,তার প্রতি রাগ দেখানোসহ বিভিন্ন কাজে।এমন পরিস্থিতিতে আপনার এমন তাড়াহুড়ো ও রেগে যাওয়াসহ ছোট ছোট ভুলগুলো আপনার সন্তানের পুরো দিন নষ্ট করে দিতে পারে। আসলে শিশুর মন খুবই সংবেদনশীল এবং সকালের শুরু তার মেজাজ, মনোযোগ ও সারা দিনের কর্মক্ষমতা নির্ধারণ করে। এমন পরিস্থিতিতে আপনার কিছু ভুল করা এড়ানো উচিত।যেমন সবচেয়ে বড় ও সাধারণ ভুল হলো ভোরে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করা। তাড়াতাড়ি করা, সন্তানকে যদি বলা হয়, তুমি সবসময় দেরি করে আসো!, তুমি এখনো রেডি হওনি কেন? এর মতো জিনিসগুলো শিশুর মনে উত্তেজনা সঞ্চার করে। এরফলে শিশুটি চাপে পড়ে স্কুলে যায়, সে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারে না এবং চাপে থাকে। পড়াশোনার পরিবর্তে তার মন সকালে ঘটে যাওয়া ঝগড়ার ওপর আটকে যায়।এটি এড়াতে রাত থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন।ব্যাগ প্যাক করা, ইউনিফর্ম বের করা, টিফিনের পরিকল্পনা করা, রাতে নিজেই এই জাতীয় কাজ করুন। যাতে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে কোনো তাড়াহুড়ো না হয়। তারপর,শিশুকে সকালে খেতে সময় না দেওয়া বা জোর করে সকালে খাওয়ানো,উভয় পরিস্থিতিই ক্ষতিকারক। অনেক বাবা-মা তাড়াহুড়ো করে শিশুকে খাবার ছাড়াই স্কুলে পাঠান। এদিকে খালি পেটে শিশুর শক্তির অভাব, বিরক্তি এবং পড়াশোনায় আগ্রহের অভাব দেখা দেয়। অন্যদিকে জোর করে খাওয়ানোও সমানভাবে ক্ষতিকারক। এটি শিশুর মনে খাবার সম্পর্কে নেতিবাচকতা তৈরি করে এবং কখনো কখনো বমিও হয় ৷ এ ছাড়াও ব্রেকফাস্ট না করা শরীরের জন্য়ও ভীষণভাবে ক্ষতিকর।এটি এড়াতে শিশুকে হালকা ও পুষ্টিকর ব্রেকফাস্ট দিন, যা সে আনন্দের সঙ্গে খেতে পারে। যদি সে খেতে না চায়, তাহলে তাকে বকাঝকা করবেন না, বরং তাকে ভালোবাসা দিয়ে বুঝিয়ে বলুন। স্মুদি, পরোটা, স্যান্ডউইচ, উপমার মতো বিকল্প রাখুন। পাশাপাশি,স্কুলে যাওয়ার সময় দরজায় দাঁড়িয়ে বলা, শিক্ষক যা শিখিয়েছেন তা মনোযোগ সহকারে শুনবে, পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হবে,এই ধরনের জিনিস শিশুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সে স্কুলকে একটি পরীক্ষার হল হিসেবে দেখতে শুরু করে। যেখানে কেবল নম্বরই গুরুত্বপূর্ণ। এটি পড়াশোনার চাপ বাড়ায় এবং শেখার পরিবর্তে মুখস্থ করার অভ্যাস গড়ে তোলে।এর পরিবর্তে আপনি তাকে ইতিবাচকভাবে স্কুলে পাঠান।অনেক মজা করবে, নতুন বন্ধু তৈরি করবে, স্কুলে যা শিখে আসবে তা অবশ্যই বাড়ির সবাইকে শেখাবে।এই ধরনের কথা শিশুদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    কোনো বন্ধুর সঙ্গে আপনার শিশুকে তুলনা করবেন না।এই তুলনা শিশুর হৃদয় ও মনকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করে। এতে তার মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হয়, তার আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায় এবং বন্ধুদের প্রতি ঈর্ষার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এটি এড়াতে সর্বদা আপনার সন্তানের প্রশংসা করুন এবং তাকে অনুভব করান যে সে অনন্য। তার ছোট ছোট সাফল্যের প্রশংসা করুন।