
ছিল বিয়ের পোশাক, হয়ে গেল প্রতিশোধের পোশাক। গত বছর পোশাকের আমূল পরিবর্তনের কারণে শিরোনামে এসেছিলেন দক্ষিণী সিনেমার অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু।
২০২১ সালে দক্ষিণী অভিনেতা নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর ২০২৪-এ নিজের বিয়ের পোশাক আবার পরেছিলেন সামান্থা। কিন্তু বিয়ের সময়ে যে পোশাক ছিল মায়াবী, রূপকথার মতো, ফুলেল সাদা গাউন, সে পোশাকই রং বদলে হয়ে যায় কালো।গাউনের হাতা উধাও হয়ে গিয়ে অফ-শোল্ডার হয়ে যায়।যেন তখন যা বলার ছিল, তার উল্টো কিছু বলতে চাইছে নতুন এই পোশাক। একই পোশাকে সামান্থার দুই পোজও যেন ছিল বিপরীতধর্মী। ওয়েডিং ড্রেস হয়ে যায়,রিভেঞ্জ ড্রেস।সে সময়ে এই ড্রেস নিয়ে নানাবিধ চর্চা চলে। পরের গাউনটি ডিজাইন করেছিলেন পোশাকশিল্পী ক্রেশা বাজাজ। সম্প্রতি দু’জনেই এই পোশাকের নেপথ্যের কাহিনি, উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেন। ক্রেশার বক্তব্য, এ পোশাক কেবল একটি জামা নয়।অর্থাৎ যা আগে ছিল স্মৃতিমধুর, আবেগঘন যাত্রাপথের চিহ্ন, পরে হয়ে ওঠে নতুন কিছুর সূচনা। এই গোটা যাত্রাপথের গল্পকে অন্য মোড়ক বলতে চেয়েছিলেন সামান্থা। অতীতকে মুছে ফেলা এর উদ্দেশ্য ছিল না।বরং নতুনভাবে আলিঙ্গন করতে চেয়েছিলেন নায়িকা সামান্থা রুথ প্রভু।ক্রেশা সে দায়িত্ব পালন করে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করেন। অতীতের চিহ্ন বদলে ফেলা নিয়ে সামান্থার ভাবনা নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে।সামান্থার মতে, বিবাহবিচ্ছেদের পর মহিলাদের যেভাবে ব্যবহৃত তকমা দিয়ে দেওয়া হয়, যেভাবে মহিলাদের মনে করানো হয়, তারা ব্যর্থ, তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত, সেই গোটা বক্তব্যের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ ছিল পোশাকের এই ভোলবদল। যে পোশাক আসলে ব্যবহৃত। তবে সামান্থা তার কালো গাউনটিকে প্রতিশোধের পোশাক বলতে চান না। অনেকে সে সময়ে ওই পোশাকটিকে রিভেঞ্জ ড্রেস তকমা দিয়েছিল বটে, কিন্তু অভিনেত্রী জানাচ্ছেন, আপাতভাবে তেমন মনে হলেও আসলে এর উদ্দেশ্য খুব ব্যক্তিগত। তার রূপকথার গল্পের শেষটা যেমনটি কল্পনা করেছিলেন, তেমন ছিল না। কিন্তু তা নিয়ে দুঃখ করার পক্ষপাতী নন সামান্থা।
বিচ্ছেদের যন্ত্রণাকে আলিঙ্গন করে নতুন পথে চলতে চেয়েছেন। অর্থাৎ, শেষ থেকে শুরুর বার্তা দিতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু।









