
তপ্ত গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে আমরা বারবার জল পান করি। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন যে, সারা দিন প্রচুর জল খাওয়ার পরেও ক্লান্তি বা জলশূন্যতা কাটছে না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো শরীরে ইলেকট্রোলাইটের অভাব। এবার প্রশ্ন হলো,কেন শুধু জল যথেষ্ট নয়?গ্রীষ্মকালে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে শুধু জল বের হয় না, সেই সঙ্গে সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ বা ইলেকট্রোলাইটও বেরিয়ে যায়।আমরা যখন শুধু জল পান করি, তখন শরীরের এই খনিজগুলোর ভারসাম্য ঠিক হয় না। ফলে প্রচুর জল পান করার পরেও শরীর ক্লান্ত লাগে বা মাথা ঘোরে। এদিকে,ইলেকট্রোলাইট হলো এমন কিছু খনিজ উপাদান, যা শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি কোষের ভেতরে জল পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ ও পেশির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে।সহজ কথায়, জল শরীরকে ভেজায়, আর ইলেকট্রোলাইট সেই জলকে কোষের কাজে লাগাতে সাহায্য করে।ওদিকে,শরীরে পর্যাপ্ত ইলেকট্রোলাইট না থাকলে পেশিতে টান ধরা,ক্র্যাম্প, প্রচণ্ড ক্লান্তি ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার কারণে পানি পান করলেও তা কোষ ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জল পানের পাশাপাশি ইলেকট্রোলাইটের উৎসগুলো গ্রহণ করা জরুরি।এর জন্য যা করতে পারেন,ডাবের জল খেতে পারেন। এটি ইলেকট্রোলাইটের একটি প্রাকৃতিক ও আদর্শ উৎস।
আবার জলেতে ওআরএস মিশিয়ে পান করলে দ্রুত খনিজের ঘাটতি পূরণ হয়। ওদিকে বাড়িতে তৈরি হালকা লবণ ও লেবুর শরবত ইলেকট্রোলাইটের ভালো উৎস হতে পারে। সব মিলিয়ে সুস্থ থাকতে শুধু তৃষ্ণা মেটানো নয়, বরং জলের সঙ্গে খনিজ লবণের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই আসল কৌশল।









