
আমাদের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশই জল। তাই সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত জল পান করা খুবই জরুরি।
জলশরীরে অনেক কাজ করে। এটি শরীরের লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে। রক্তচাপ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। জয়েন্ট নরম রাখে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কোষকে সুস্থ রাখে।সবাই জানেন জল পান করা দরকার। কিন্তু অনেক সময় নিয়ম করে জল খাওয়া কঠিন হয়ে যায়।জল বেশি পান করার কয়েক টি সহজ উপায় আছে। যেমন, শরীরের জলের চাহিদা বুঝুন।জল বেশি পান করার আগে আপনার শরীরের কতটা জল দরকার, তা বুঝতে হবে সাধারণভাবে বলা হয়, দিনে ৬৪ আউন্স বা ৮ গ্লাস জল পান করা উচিত। কিন্তু এটি পুরোপুরি বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভরযোগ্য নয়।ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিন বলছে, পুরুষদের দিনে প্রায় ১২৫ আউন্স এবং মহিলাদের প্রায় ৯০ আউন্স তরল গ্রহণ করা উচিত। এতে জল, অন্যান্য পানীয় এবং খাবারের পানি সবই ধরা হয়েছে।তবে তারা এটাও বলেছে, সবার জন্য এক নিয়ম ঠিক নয়।কারণ এটি নির্ভর করে ব্যক্তির কাজের ধরন, কোথায় থাকেন, স্বাস্থ্যের অবস্থা ইত্যাদির ওপর।বেশিরভাগ মানুষের জন্য তৃষ্ণা লাগলে জল পান করলেই চাহিদা পূরণ হয়। তবে কেউ যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, বাইরে কাজ করেন বা গরম জায়গায় থাকেন, তাহলে বেশি জল লাগতে পারে।পাশাপাশি প্রতিদিন কতটুকু জল পান করবেন, একটি লক্ষ্য ঠিক করুন। এতে জল পান বাড়তে পারে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে তা পূরণ করার উৎসাহ থাকে। এতে ভালো অভ্যাস তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সেইসঙ্গে লক্ষ্য এমন হওয়া উচিত যা নির্দিষ্ট, মাপা যায়, অর্জন করা সম্ভব, বাস্তবসম্মত এবং সময় নির্ধারিত। যেমন, আপনি লক্ষ্য রাখতে পারেন দিনে ৩২ আউন্স বা ৯৬০ মিলিলিটার জল পান করবেন। আপনার অগ্রগতি লিখে রাখলেও উপকার হবে। এতে লক্ষ্য পূরণে আগ্রহ বাড়ে এবং অভ্যাস তৈরি হয়। অন্যদিকে,সারাদিন সঙ্গে জলের বোতল রাখলে বেশি জল খাওয়া সহজ হয়। বাইরে কাজ, ভ্রমণ বা বাসা- যেখানেই থাকুন, সহজে জল পান করা যায়। চোখের সামনে গ্লাস বা বোতল রাখুন। এতে বারবার জল খাওয়ার কথা মনে পড়বে। এটি পরিবেশের জন্যও ভালো। কারণ এতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার কমে।মনে করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন, মোবাইল অ্যাপ বা অ্যালার্ম ব্যবহার করে জল খাওয়ার জন্য মনে করিয়ে দিতে পারেন। যেমন, প্রতি ঘণ্টায় এক গ্লাস জল শেষ করার জন্য মনে করিয়ে দিবে এমন এলার্ম দিতে পারেন। এতে জল খাওয়ার পরিমাণ বাড়বে। বিশেষ করে যখন আপনি যদি ভুলে যান বা খুব ব্যস্ত থাকেন।পাশাপাশি,সোডা জাতীয় পানীয়ের বদলে জল পান করুন। এ ধরনের পানীয়ে অনেক বাড়তি চিনি থাকে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দৈনিক মোট ক্যালরির ৫ শতাংশের কম চিনি খাওয়া উচিত। কিন্তু মাত্র এক কাপ সোডা এই সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বেশি চিনি খেলে স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।প্রতিবার খাবারের আগে এক গ্লাস জল পান করার অভ্যাস করুন। দিনে ৩ বার খাবার খেলে এতে অতিরিক্ত ৩ কাপ বা ৭২০ মিলিলিটার পানি পান করা হয়ে যায়। অনেক সময় শরীর তৃষ্ণাকে ক্ষিদে মনে করে। খাবারের আগে জল খেলে আসল ক্ষিদে বোঝা সহজ হয়। ওজন কমাতে চাইলে এটিও কাজে লাগে। কারণ এতে পরের খাবারে কম ক্যালরি খাওয়া হতে পারে। আবার যদি জলের স্বাদ ভালো না লাগে, তাহলে শসা-লেবু, লেবু, বা স্ট্রবেরি-কিউই মিশিয়ে জলেতে স্বাদ আনা যায়। নিজের পছন্দমতো ফলও ব্যবহার করতে পারেন। পাউডার বা তরল স্বাদযুক্ত উপাদানও ব্যবহার করা যায়। তবে এগুলোতে চিনি বা ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকতে হবে। ওদিকে,আপনি যদি ৮ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে প্রতি ঘণ্টায় এক গ্লাস জল পান করলে দিনে ৮ গ্লাস জল হয়ে যায়। অফিসে পৌঁছে গ্লাস ভরে রাখুন। প্রতি ঘণ্টায় জল শেষ করে আবার ভরে নিন। এতে সারাদিন জল পান করা সহজ হবে।সারাদিন অল্প অল্প করে জল পান করুন। এতে মুখ শুকিয়ে যায় না। শ্বাসও সতেজ থাকে। এর বাইরে জল বেশি পেতে এমন খাবার খান যেগুলোতে জল বেশি থাকে। যেমন,লেটুসে ৯৬ শতাংশ জল,সেলারিতে ৯৫ শতাংশ জল,জুকিনিতে ৯৫ শতাংশ জল,বাঁধাকপিতে ৯২ শতাংশ জল,তরমুজে ৯১ শতাংশ জল,খরমুজে ৯০ শতাংশ জল।এগুলোতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে। যা শরীরকে সুস্থ রাখে।এছাড়া,ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস জল পান করুন। আবার ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পান করুন। সকালে ঠান্ডা জল খেলে ঘুম কাটে। ঘুমানোর আগে জল খেলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং খারাপ গন্ধ হওয়া কমে। সব মিলিয়ে,সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত জল পান করা খুবই জরুরি। ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিন বলছে, বেশিরভাগ মানুষের দিনে ৯০ থেকে ১২৫ আউন্স বা ২৭০০ থেকে ৩৭০০ মিলিলিটার তরল দরকার। তবে নিয়ম করে জল পান করা অনেকের জন্য কঠিন।
বিশেষ করে যারা ব্যস্ত, ভুলে যান বা জলের স্বাদ পছন্দ করেন না। তাদের এই ১২টি সহজ উপায় মেনে চললে প্রতিদিনের জল পানের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।









