
ঘন দুধে চা ফুটবে,গাঢ় রং আসবে,চিনি থাকবে যথেষ্ট,তবেই না চা,এমনটাই মনে করেন বহু চা-প্রেমী। কেউ আবার চা নিয়ে বেশ শৌখিন।
ভাল দার্জিলিং চা ছাড়া মুখে রোচে না। আসলে চায়ের স্বাদ নিয়ে যতই মতান্তর থাক, অনেকেরই দিনভর বার কয়েক চা ছাড়া চলে না। দুধ-চিনি ছাড়া লিকার খেলে তেমন কোনও অসুবিধা না থাকলেও ঘন ঘন দুধ,চিনি সহযোগে চা খেলে ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে নানা রকম শারীরিক সমস্যাও।এখন প্রশ্ন হলো,কী ক্ষতি হতে পারে এতে? চায়ে অন্তত ২ চামচ মিষ্টি না হলে চলে না? আবার দুধটাও হতে হবে বেশ ঘন? দিনে তিন থেকে চার বার চা খেলেই অন্তত ৬-৮ চামচ চিনি যাবে শরীরে। সঙ্গে ঘন দুধের ফ্যাট তো আছেই।সুতরাং ওজন বৃদ্ধি অনিবার্য। এদিকে চিকিৎসকেরা বলেন, অতিরিক্ত চিনি শরীরের পক্ষে মোটেই ভাল নয়। শরীরচর্চার অভ্যাস না থাকলে, ক্যালোরি মেপে না খেলে দুধ, চিনি দেওয়া চা হয়ে উঠতে পারেন ওজন বৃদ্ধির কারণ।অনেক সময় দেখা যায়,সকালে উঠেই এক কাপ দুধ-চা খেয়ে নিলেন।কিছুক্ষণ পরে শুরু হল অম্বল, গ্যাসের সমস্যা। এমনটা হয়েই থাকে। আসলে চায়ে থাকা ক্যাফিনের ফলে পাকস্থলীতে কার্যকলাপে সমস্যা হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও হতে পারে। ঘন ঘন দুধ চা খাওয়ার অভ্যাসে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে।সব মিলিয়ে দুধ যাদের হজম হয় না,তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।খালি পেটে কড়া করে দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস পেপটিক আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।ওদিকে দুধে থাকে ভিটামিন বি ১২ ও ভিটামিন সি। দুধ যদি শুধু খান, তা হলে এই দুই ভিটামিন শরীরের জন্য খুবই ভাল। কিন্তু যদি চা দিয়ে বার বার ফোটানো হয়, তা হলে এই দুই ভিটামিনেরই পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।অন্যদিকে,চায়ে থাকে ক্যাফিন। অতিরিক্ত ক্যাফিন শরীরের জন্য মোটেই ভাল নয়। নিয়মিত অতিরিক্ত চা খেলে ক্যাফিনের প্রভাবে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে, রক্তচাপও অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এর প্রভাব হার্টে তো বটেই, স্নায়ু্তন্ত্রেও পড়তে পারে।অস্থিরতা, উদ্বেগের মতো সমস্যাও এর ফলে দেখা দেয়। যাঁদের উদ্বেগের সমস্যা আছে, বিশেষত তাঁদের ঘন ঘন চা খাওয়ার অভ্যাস ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।পাশাপাশি ঘন ঘন চা, চিনি দিয়ে দুধ-চা খাওয়ার অভ্যাসে অনেক সময় খিদেও কমে যায়। দুপুরে খাওয়ার সময়ে এক কাপ চা খেয়ে ফেললে কিছুতেই আর খাবার খেতে ইচ্ছা হবে না। এর ফলে জল খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়। ফলে, পুষ্টি এবং জলের ঘাটতিও দেখা দিতে পারে। অনেকে ভাবতে পারেন, দুধ অ্যাড করায় বাড়তি পুষ্টিগুণ যোগ হয় চায়ে।কারণ দুধে থাকে ভিটামিন বি ১২ ও ভিটামিন সি। দুধ যদি শুধু খান, তা হলে এই দুই ভিটামিন শরীরের জন্য খুবই ভাল। কিন্তু যদি চা দিয়ে বার বার ফোটানো হয়, তা হলে এই দুই ভিটামিনেরই পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।এর বাইরে,সন্ধের পর থেকে বার বার চা খেলে বা রাতের দিকে চা খেলে ক্যাফিনের প্রভাবে ঘুম আসতে চায় না।
ফলে রাতের দিতে চা খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। তা ছাড়া দুধ চা থেকে যে হেতু হজমের সমস্যা হয় তাই পর্যাপ্ত ঘুমের ক্ষেত্রেও তা অন্তরায় হতে পারে।









