
ওজন কমাতে মানুষ এখন কত কিছুই না করছেন। কেউ খাচ্ছেন ওট্স-ডালিয়া,কেউ সেদ্ধ সব্জি ও ফল দিয়েই পেট ভরাচ্ছেন। আবার ওজন কমাতে কেবলই মাছ-মাংস বা ডিম, অর্থাৎ প্রোটিন ডায়েটে ভরসা করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে যা-ই খাচ্ছেন, তা স্বাস্থ্যকর।
তার পরেও ওজন কমার নাম নেই। এমন হলে বুঝতে হবে দোষটা খাওয়াদাওয়ার নয় বরং শরীরের। আসলে হরমোনের ঘূর্ণিপাকে পরিপাকের প্রক্রিয়া বিগড়ে যেতে পারে যখন-তখন। স্বাস্থ্যকর খাবারও মেদ হয়ে জমতে পারে তখন। আসলে শরীরের ভিতরেও যেন যুদ্ধ চলে।এই অবস্থায় বলা হয় লড়াইটা দুই হরমোনের। তাদের বিবাদেই শরীর বিভ্রান্ত হয়। ফলে পরিপাকের প্রক্রিয়াই বিগড়ে যায়। এমনই যুক্তি দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ,আইসিএমআর।বলা হয়,ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় দু’টি হরমোন বিশেষ ভূমিকা নেয়,ইনসুলিন ও লেপটিন। ইনসুলিনের নাম শুধু সুগারের সঙ্গেই জড়িয়ে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। বিপাক প্রক্রিয়ায় এই হরমোনেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। খাবার হজম হওয়া, তার থেকে পুষ্টিরস শোষণ, সবটাই তদারকি করে ইনসুলিন।অতিরিক্ত চর্বি পুড়িয়ে শক্তি তৈরি করাও এর কাজ। যদি এর ওঠানামা বেশি হয় এবং শরীরে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা তৈরি হয়ে যায়, তা হলেই গন্ডগোল। তখন স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও তার পুষ্টি শরীর শোষণ করবে না। বাড়তি চর্বিও গলবে না। উল্টে সেই খাবারই হজম না হয়ে মেদ হিসাবে জমতে থাকবে শরীরের নানা জায়গায়। যে খাবারে কার্বোহাইড্রেট ও শর্করা বেশি,সে খাবার অতিরিক্ত খেলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা তৈরি হয়। এই জায়গা থেকে হয়তো ভাবছেন,কার্বোহাইড্রেটের জন্য ভাত বা রুটি খাচ্ছেন না, শর্করা কমাবেন বলে চিনি, মিষ্টি সব বাদ দিয়েছেন। কিন্তু যদি প্রয়োজনের অধিক ফল বা ফলের রস অথবা দানাশস্য যেমন ওট্স, ব্রাউন রাইস খেয়ে ফেলেন, তা হলে সেটি রক্তে শর্করা হিসাবে জমতে থাকবে। ফলে ইনসুলিনকেও বেশি তৎপর হতে হবে এবং সে তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে।ওদিকে,ইনসুলিন যখন বিপাকে পড়বে, তখন আরও এক হরমোন তার কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করবে।খাবার পরিপাক হওয়া বা হজম করানোতে ইনসুলিনের সঙ্গে সমানে টক্কর দেয় লেপটিন হরমোন।এর কাজ হল পেট ভরে গেলে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠানো। সাধারণতঃ লেপটিনের গোলমাল হলে, ভুল সংকেত যায় মস্তিষ্কে। তখন পেট ভরে গেলেও পাকস্থলী থামতে পারে না। খালি মনে হয় খিদে পাচ্ছে।
ফলে অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায় এবং বাড়তি ক্যালোরি জমা হয় শরীরে। যিনি স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন, তিনিও যদি অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন, তা হলে বিপাকক্রিয়ার হার বদলে যাবে। তখন দেখা দেবে,মেটাবলিক ডিজ়অর্ডার, যা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এই অবস্থায়,দুই হরমোনের এই ছন্দপতনের কারণ শুধু খাওয়াদাওয়া নয়। শরীরচর্চা না করা, কম ঘুমোনো ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা থেকেও এমনটা হতে পারে। তাই ওজন কমাতে হলে শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই চলবে না, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে জীবনযাপনেও নিয়ম ও সংযম বজায় রাখতে হবে।








