
সাধারণতঃ খাওয়াদাওয়ার ভুলে অনেক সময় সুগার লেভেলও ওঠানামা করে। কিন্তু সবসময়ে খাবারকে দোষ দেওয়া যায় না।
অনেক সময়ে ফাস্টিং সুগার ওঠানামা করে ঘুমের অভাবে। অনেকের অভিযোগ, ডিনারে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও পরদিন সকালে সুগার লেভেল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।এটা ঘটে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে।এখন প্রশ্ন হলো,ঘুমের অভাবে কেন সুগার লেভেল বাড়ে? আসলে,রাতে ৭-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম জরুরি। যখনই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে বা ঠিকমতো ঘুম হয় না, শরীরে কর্টিসল হরমোন বেশি নিঃসৃত হতে থাকে। এই স্ট্রেস হরমোন ইনসুলিনের কার্যকারিতায় বাধা দেয়।মূলত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। কোষে ইনসুলিন পৌঁছাতে পারে না। তার পরে যতই স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট খান, শরীরে শর্করা ঢোকেই, আর স্বাভাবিকভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়চিকিৎসকদের মতে, মাত্র এক রাত ঘুম না হলে কিংবা ৪-৫ ঘণ্টা ঘুমালেই শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। তবে এটা সাময়িক। কিন্তু দ্রুত এর ফল দেখা যায়। তা ছাড়া ঘুম থেকে ওঠার সময়েও শরীরে কর্টিসল লেভেল বেশি থাকে। ৮-৯ ঘণ্টা খালি পেটে থাকার পরে যখন ফাস্টি সুগার লেভেল টেস্ট করেন, তখন শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি আসে।আর দিনের পর দিন এমনটাই চলতে থাকলে আপনি প্রি-ডায়াবেটিস বা টাইপ-টু ডায়াবেটিসের শিকার হতে পারেন।ওদিকে,ঘুম শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ঘুমের মাধ্যমে শরীর নিজেকে হিল করে। শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিজের ছন্দে ফেরে। ঘুমের অভাবে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বাড়ে ডায়াবেটিস, ওবেসিটির ঝুঁকি। তৈরি হয় প্রদাহ এবং ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি।তাই শুধু যে খাওয়াদাওয়ার ভুলেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে, এমনটা নয়।
বর্তমানে সেডেন্টারি লাইফস্টাইলই টাইপ- টু ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অত্যধিক মানসিক চিন্তা, শরীরচর্চার প্রতি অনীহা—এই বিষয়গুলোও সমানভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়।









