
কলকাতার ইস্কন ও মাহেশের রথের পাশাপাশি জেলাজুড়ে রথ উৎসবে মেতেছে রাজ্যবাসী। উৎসব ঘিরে পুণ্যার্থীদের ঢল চোখে পড়েছে নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, হাওড়া, বীরভূম, বাঁকুড়া, শিলিগুড়ি সহ অন্যান্য জেলাতেও।
ইস্কনের রথ উৎসব উপলক্ষ্যে নদিয়ার মায়াপুরে বিশাল পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন বহু মানুষ। পূর্ব মহিশাদল রাজবাড়ির ২৪৭তম বছরের রথ উৎসব দেখতে হাজির হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। ১৭৪ তম বছরে বালির গোস্বামী পাড়া এবং ১৬৪ তম বছরে হাওড়ার চৌধুরী পরিবারের রথ উৎসবকে ঘিরেও মানুষের উৎসাহ চোখে পড়েছে। মহেশতলা নুঙ্গি পালবাড়ির ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ১০০ বর্ষে পদার্পণ করেছে।সকাল থেকেই এখানে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়েছে। রথকে ঘিরে বসেছে নুঙ্গি স্টেশন রোডে বিশাল মেলা। বারুইপুরের রাসমাঠে রায়চৌধুরী পরিবারের রথযাত্রা ৩০০ বছর অতিক্রান্ত করেছে। ব্রিটিশ আমলের লোহার শিকলে রথের রশিতে পড়েছে টান। এই রথযাত্রাকে ঘিরে প্রতিবছর বসে রাসমাঠে বসে ১৫ দিনের মেলা। পুরীর রথ যাত্রার নিয়ম সময় অনুসরণ করে এখানেও রথ উৎসব পালিত হয়। চন্দননগর লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারের রথের রশিতে পড়েছে টান। ১৭৭৬ সালে এই রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন চন্দননগর লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী যদুবেন্দ্র ঘোষ। রানিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে। রথযাত্রার দিন গোঘাটের কামারপুকুর শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ সংলগ্ন লক্ষ্মীজলায় চিরাচরিত প্রথা মেনে মঠের মহারাজ,সাধু-সন্ন্যাসীরা একসঙ্গে ধান রোপন করেছেন। মধ্যযুগের বন্দর নগর সপ্তগ্রামের এক সময়ে নাম ছিল বংশবাটি পরে সেটি নাম করন হয় বাঁশবেড়িয়া। সেখানে বাঁশবেড়িয়ার রথে ওঠে রাধাকৃষ্ণ।বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে মল্লরাজাদের রথের রশিতে পড়ল টান। সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো এই রথযাত্রা বিশেষত্ব হল, জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা নন, রথে সওয়ার হন রাধা মদন গোপাল জিউ। উৎসব উপলক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নজরদারিতে বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার এবং সিসিটিভি ক্যামেরা। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনীও।









