
চোখের সামনে ছেলেকে প্রতি দিন, প্রতি মুহূর্তে কষ্ট পেতে দেখেছেন, সন্তানের কষ্ট চোখে দেখা যাচ্ছিল না। চোখের সামনে তিলে তিলে ছেলেকে শেষ হতে দেখা, বাবা-মায়ের কাছে এর থেকে বড় যন্ত্রণা আর কী হতে পারে! সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেছেন হরীশ রানার বাবা অশোক রানা।
কথাগুলি বলার সময় কান্না লুকোনোর চেষ্টা করেছেন তিনি। তবে সুপ্রিম কোর্টের কাছে অশোক রানা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদের যুবক হরীশ রানার নিষ্কৃতিমৃত্যুর রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের মধ্যে এই প্রথম। সুপ্রিম কোর্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হরীশের বাবা বলেন,এই রায়ের জন্য কৃতজ্ঞ। ঈশ্বরের অশেষ কৃপা, বিচারপতিরা কথা শুনেছেন। গাজ়িয়াবাদের বাড়িতে বসে অশোক রানা আরও বলেছেন,এই সিদ্ধান্ত হরীশ এবং তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। মৃত্যুই একমাত্র ওকে নিষ্কৃতি দিতে পারে। গত ১৩ বছর ধরে তিলে তিলে যে কষ্ট ভোগ করছে, সেই কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি পাক তাঁদের সন্তান। তবে বাবা-মায়ের কাছে এই সিদ্ধান্তও যে কত বড় একটা আঘাত, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না বলেও জানিয়েছেন হরীশের বাবা। তিনি আরও জানিয়েছেন, হরীশ খুব প্রতিভাবান ছাত্র ছিলেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক করছিলেন ,বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার ছিলেন হরীশ।
২০১৩ সালের ২০ অগস্ট রাখিবন্ধন উৎসবের দিন তাঁদের মেসেজ করেছিলেন।তার পরই খবর আসে হরীশ পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়েছেন। পাঁচতলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই শয্যাশায়ী তিনি। মস্তিষ্কে চোটের ফলে হরীশ পারসিসটেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট,পিভিএস বা স্থায়ী অচেতন অবস্থায় চলে যান।









