
৬৯ বছরের ভালবাসার সমাপ্তি। প্রয়াত কলকাতার পদাতিক গবেষক পরমেশ্বরন থনকপ্পন নায়ার।
কেরলের এর্নাকুলাম জেলার চেন্নামঙ্গলম শহরে পরমেশ্বরন থনকপ্পন নায়ার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছেন বলে তাঁর ভাগ্নে বিজয়ন পানমপিল্লি জানিয়েছেন। বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। ছ’বছর আগে নভেম্বরের এক সকালে কলকাতা ছেড়ে কেরলের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন পরমেশ্বরন থনকপ্পন নায়ার। কলকাতার পদাতিক গবেষক ভেবেছিলেন, শেষ জীবনটা হট্টগোল ছেড়ে নিজেদের কেরলের নারকেল বাগানে কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু কলকাতার কারও সঙ্গে কথা হলেই ভালবাসার শহরের কথা ভেবে উদ্বেল হতেন তিনি। কলকাতার সঙ্গে তাঁর বাঁধন অবশেষে মৃত্যুতেই মুছে গিয়েছে। প্রায় ৬ দশক আগে কেরলের একটি ছোট্ট গ্রাম থেকে কাজের খোঁজে পা রেখেছিলেন তিলোত্তমায়।কাঁসারিটোলার ইন্টারনেট, টিভিহীন ছোট ফ্ল্যাটে অজস্র বইয়ের সঙ্গে একাই থাকতেন পরমেশ্বরন থনকপ্পন নায়ার। নিজে রান্না করতেন আর বিভিন্ন গ্রন্থাগারে, বাড়িতে পড়াশোনা করতেন। গবেষণার কাজে কলকাতার রাস্তায় ঘুরতেন। স্ত্রী কেরলের স্কুলে পড়াতেন। উনিশ শতকের বাঙালি বিষয়ক গবেষক শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায়কে একটি সাক্ষাৎকারে পরমেশ্বরন থনকপ্পন নায়ার বলেছিলেন, শহরের অনেক খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ থাকলেও কলকাতার ইতিহাস লেখা হয়নি। এটা ভেবেই কলকাতার ইতিহাসে হাত দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭০-এর দশকের শেষ থেকেই তাই সব কাজ ছেড়ে কলকাতাকে নিয়ে বই লিখছেন পরমেশ্বরন থনকপ্পন নায়ার। আ হিস্ট্রি অব ক্যালকাটা স্ট্রিটস-সহ ৬২-৬৩টি বইয়ের লেখক তিনি। শেষ বই গান্ধী ইন ক্যালকাটা ২০১৯ সালে প্রকাশিত।









