
সন্ন্যাসের পথে পা বাড়িয়ে কিন্নর আখড়ায় মহামণ্ডলেশ্বর পদ পেয়েছিলেন মমতা কুলকার্নি। তবে বলিউডের পর্দায় ঝড় তোলা একসময়কার এই সাহসিনীর সন্ন্যাসগ্রহণ নিয়ে কম চর্চা হয়নি। খাস কিন্নর আখড়াতেই বিতর্ক শুরু হয় তাঁর এহেন উচ্চস্তরের পদপ্রাপ্তি নিয়েও। নিন্দে, সমালোচনার জেরেই ক দিন আগে কিন্নর আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন মমতা কুলকার্নি।
তবে মায়ার বাঁধন কাটিয়ে উঠতে পারেননি। মাত্র তিন দিনেই ফিরতে হয়েছে তাঁকে কিন্নর আখড়ায়। এক ভিডিও বার্তায় কিন্নড় আখড়ায় ফেরার খবর নিজেই জানিয়েছেন মমতা কুলকার্নি। আচমকাই কেন ইউটার্ন মমতার? সদ্য সন্ন্যাস গ্রহণ করা প্রাক্তন অভিনেত্রী জানিয়েছেন, আসলে আশ্রমের আচার্য মহামণ্ডলেশ্বর লক্ষ্মী নারায়ণ ত্রিপাঠী তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেননি।তাই সনাতন ধর্মের টানে আশ্রমেই ফিরতে হয়েছে মমতা কুলকার্নিকে।এদিকে মমতার বারবার ভিন্ন ঘোষণায় নেটপাড়ার মন্তব্য,ধর্ম কি এতই সস্তা হয়ে উঠেছে? একবার পদত্যাগ করছেন, একবার আশ্রমে ফিরে যাচ্ছেন। কারও পরামর্শ, এগুলো এতটা সহজভাবে নেবেন না। অনেকে আবার কিন্নর আখড়ায় মমতানন্দ গিরির ফিরে যাওয়ায় খুশিও হয়েছেন।জানা গিয়েছে, সদ্য সন্ন্যাস নেওয়া মমতা কুলকার্নিকে মহামণ্ডলেশ্বর পদ দেওয়ায় কিন্নড় আখড়ার সংস্থাপক ঋষি অজয় দাস এবং আখড়ার আরেক মহামণ্ডলেশ্বর লক্ষ্মী নারায়ণ ত্রিপাঠীর মধ্যে ঘোর দ্বন্দ্ব বাঁধে।সেই আবহেই শোনা যায়,দশ কোটি টাকার বিনিময়ে নাকি মহামণ্ডলেশ্বর পদ কিনেছিলেন মমতা কুলকার্নি।যদিও সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে মমতানন্দ গিরি দাবি করেছিলেন যে,তাঁর কাছে দশ কোটি টাকা তো দূরঅস্ত, ১ কোটি টাকাও নেই।এমনকী গুরুদক্ষিণা স্বরূপ যে ২ লক্ষ টাকা তিনি দিয়েছিলেন,সেটাও ধার করে। সন্ন্যাসিনীর এহেন দাবিতে যদিও চিঁড়ে ভেজেনি।
বিতর্ক আরও তুঙ্গে ওঠে,তাঁর নানাসময়ের নানা মন্তব্য নিয়ে।সম্প্রতি নবরাত্রির সময়ে দিনে তিনবেলা যজ্ঞ করে রাতে দু পাত্র মদ্যপান করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।সেই ইস্যু নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।যাবতীয় বিতর্কের জেরেই গত সোমবার কিন্নর আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর পদ থেকে ইস্তফা দেন মমতা কুলকার্নি। তবে লক্ষ্মী নারায়ণ ত্রিপাঠী তা মেনে না নেওয়ায় আবার তাঁকে আশ্রমে ফিরতে হয়েছে।









