
এখন যা অবস্থা,তাতে মোবাইল থেকে চোখ সরানো সম্ভব নয়। ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করেই দিনের বেশি সময় কাটে। অতএব এর থেকে নিষ্কৃতি পাওয়াও অসম্ভব। ডিজিটাল পর্দা চোখের ক্ষতি করছে ঠিকই, তবে কেবল প্রযুক্তির দোষ দিতে রাজি নন গবেষকেরা। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ হয় মায়োপিয়া অর্থাৎ দূরের দৃষ্টি স্বচ্ছ নয় বা ক্ষীণদৃষ্টির শিকার হবেন।
এর কারণ যতটা স্ক্রিন টইম, তার চেয়েও বেশি রোজের এক অতি সাধারণ অভ্যাস।আসলে মায়োপিয়া এমন এক রোগ, যেখানে কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখা যায়,তবে দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হয়।পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে কমবয়সিদের মধ্যেই মায়োপিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি।সম্প্রতি এক সমীক্ষার রিপোর্ট বেরিয়েছে,যা চিন্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগবেন। কেউ আক্রান্ত হবেন মায়োপিয়ায়, কারও কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আবার কেউ চোখে ঝাপসা দেখবেন। এর কারণ মোবাইলের নীল আলো নয়,বরং নিবু নিবু বা কম আলোয় কোনও কিছু দেখা বা পড়ার অভ্যাস।স্বল্প আলোয় বা আবছা অন্ধকারে মোবাইল দেখা, বই পড়া বা কোনও কাজ করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এখনকার সময়ে অন্দরসাজেও এমন নিবু নিবু আলোরই ব্যবহার বেশি।সেগুলিই জ্বালিয়ে রাখা হয় বেশির ভাগ সময়ে। এতে ঘরের সাজসজ্জায় মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয় বটে, কিন্তু চাপ পড়ে চোখের উপরে।ওদিকে,কম আলোয় দেখা বা বই পড়ার অভ্যাস কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, কম আলোয় কিছু দেখার সময় চোখের মণি সঙ্কুচিত হয়। সে ভাবেই আলোর প্রতিফলন ঘটিয়ে চারপাশের দৃশ্য পরিষ্কার দেখার চেষ্টা করা হয়।এতে যে সমস্যা দেখা দেয়, তা হল রেটিনায় আলো পৌঁছোনোর পথটা আরও সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়, যা চোখের পেশিতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যাঁদের চশমা আছে বা দূরের দৃশ্য দেখতে কষ্ট হয়, তাঁরা যদি কম আলোয় বা আলো-আঁধারি পরিবেশে একটানা মোবাইল দেখে যান অথবা বই পড়ার চেষ্টা করেন, তা হলে তাঁদের দৃষ্টি ঝাপসা হতে বাধ্য। অবশ্য তা এক-আধ দিনে হবে না।
দিনের পর দিন এমন অভ্যাসে থাকলে চোখের সমস্যা হবেই।গবেষকদের মতে, শুধু আই ড্রপ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অভ্যাস বদলাতেই হবে। ঘরের ভিতরে পড়ার সময় বা ফোন ব্যবহারের সময় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা জরুরি। রাতে শুয়েও যদি বই পড়তে হয় বা কিছ দেখতে হয়, তা হলে নাইট ল্যাম্প নয়, উজ্জ্বল আলো থাকাই বাঞ্ছনীয়। প্রকৃতির মাঝে বেশি সময় থাকলে দৃষ্টিশক্তি ভাল থাকবে বলেও মত গবেষকদের।









