
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট গ্রহণের আগে সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকার।
কলকাতায় আই-প্যাক দফতরে ইডি-র অভিযানের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ নিয়ে গত মাসাবধি মামলা চলছিল সুপ্রিম কোর্টে।বুধবার শীর্ষ আদালতে সেই মামলার শুনানির সময়ে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন. ভি. আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়েছে, কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি ব্যক্তিগতভাবে কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে গিয়ে হাজির হন বা সেখানে বাধা সৃষ্টি করেন, তবে সেটিকে সাংবিধানিক অর্থে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত বলা যায় না। এর আগে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কলকাতায় আই-প্যাক-এর দফতরে এবং তার কো-ফাউন্ডার প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালায় ইডি। অভিযোগ ওঠে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা সেই সময়ে সেখানে পৌঁছে ইডি-র কাজে বাধা দেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে ফেলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, এটি কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একটি আইনি লড়াই। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা জানিয়ে দেয়, মোটেও তা নয়, এটিকে সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদের আওতায় এনে ফেডারেল বিরোধ বা যুক্তরাষ্ট্রীয় সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেছেন,কোনও মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী যদি তদন্ত চলাকালীন হঠাৎ ঢুকে পড়েন, তাতে গণতন্ত্রই বিপদের মুখে পড়ে, তারপরও যদি বলা হয় এটি মূলত কেন্দ্র-রাজ্যের বিরোধ,তা কীভাবে সম্ভব? এই সময়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা করে বলেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নথিপত্রও মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে গেছেন।তা শুনে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, এটি মোটেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিরোধ নয়।
এটি আসলে একজন ব্যক্তির কীর্তি, যিনি ঘটনাচক্রে একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এতে পুরো ব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।








