
সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে যারা রাতে দেরিতে ঘুমাতে যান, তাদের পক্ষে এই অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ নয়।
সঠিক পরিকল্পনা আর কিছু টিপস মানলে আপনিও খুব সহজে সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠতে পারবেন। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে মন থাকে ফুরফুরে ও ইতিবাচক চিন্তায় ভরপুর।স্মৃতিশক্তি ও একাগ্রতা বাড়ে। দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমে। ত্বক হয় উজ্জ্বল। সারা দিন থাকে শক্তি, কাজের গতি বাড়ে।তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে পারলে সকালে ৬টার মধ্যে উঠতে সহজ হয়। যদি রাত ২টায় ঘুমান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমাতে হবে। এতে দিনটাই নষ্ট হয়ে যায়।পাশাপাশি ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমান।মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বন্ধ করুন। কৃত্রিম আলো শরীরের প্রাকৃতিক ঘুমের হরমোনে ব্যাঘাত ঘটায়।হালকা রাতের খাবার খান,রাতে বেশি ভারী খাবার খাবেন না।খাওয়ার পর হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয় ও ঘুমও ভালো হয়।ঘুমের পরিবেশ তৈরি করুন,ঘর রাখুন পরিষ্কার, আলো কমান, শব্দহীন পরিবেশে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এতে মন শান্ত থাকে।সেইসঙ্গে অ্যালার্ম রাখুন একটু দূরে,ঘুমের অ্যালার্ম ঘরের এমন জায়গায় রাখুন, যাতে তা বন্ধ করতে উঠতে হয়। একবার উঠে পড়লে আবার বিছানায় না যাওয়াই ভালো।আর ঘুম না এলে চাপ নেবেন না,শুরুতে তাড়াতাড়ি ঘুম আসবে না,এটা স্বাভাবিক। চাইলে ঘুমানোর আগে গরম দুধে জাফরান বা জায়ফল মিশিয়ে খেতে পারেন। ক্যামোমাইল টি-ও ঘুম আনতে সাহায্য করে।শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দিন,ঘুমাতে যাওয়ার আগে গভীরভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। এতে মন শান্ত হয় ও ঘুম তাড়াতাড়ি আসে।অন্যদিকে,সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যা করবেনউঠে পড়েই বাইরে বেরিয়ে তাজা বাতাসে খানিকক্ষণ দাঁড়ান। এক গ্লাস জল পান করুন। ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। প্রথম ৫–১০ মিনিট কষ্ট হলেও তারপর শরীর সয়ে যাবে।দুপুরে বেশি ঘুমাবেন না। চাইলে ১৫–২০ মিনিটের একটি ছোট ন্যাপ নিতে পারেন, তবে সেটা যেন দীর্ঘ না হয়। বেশি ঘুমালে রাতে ঘুম আসতে সমস্যা হবে।সব মিলিয়ে ,নিজেকে এমন একটি উদ্দেশ্য দিন, যাতে সকালে উঠতে অনুপ্রেরণা পান,যেমন যোগব্যায়াম, ব্যায়াম, পড়াশোনা বা হাঁটতে যাওয়া।যেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণের আগে আমরা অ্যালার্ম বাজার আগেই উঠে পড়ি, এটাই হলো মনের প্রস্তুতি।
এই অবচেতন মনকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। ভোরে ঘুম থেকে ওঠা শুধু অভ্যাসের বিষয় নয়, এটি জীবনের মানও বদলে দিতে পারে। ধাপে ধাপে চেষ্টা করুন, ধৈর্য ধরুন। অভ্যাস একবার গড়ে উঠলে আপনি নিজেই বুঝবেন পার্থক্য।









