
ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার এক মাস পূর্ণ হলো। তবে এই সংঘাত শুধু ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে।
এক মাসের এই যুদ্ধে হাজারো প্রাণ ঝরে গেছে, অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়েছে। বহু জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।উল্লেখ্য ইরান‑আমেরিকা‑ইসরায়েল যুদ্ধ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। ওই দিন মার্কিন বাহিনী ও ইসরায়েল সম্মিলিতভাবে ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জবাবে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যা পরবর্তী সময়ে আরো বড় সংঘাতে পরিণত হয়। এই হামলা ইরানের তেলের চাহিদা, অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে রাষ্ট্রসংঘে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের প্রতিনিধিদলের প্রধান মারিয়া মার্টিনেজ যুদ্ধের ভয়াবহতার এক মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন,ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে অনেক চিকিৎসাকর্মী নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নিথর দেহ খুঁজে পেয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০।প্রতিবেশী লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১৪২ জন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২২ জন শিশু।
অন্যদিকে, প্যালেস্টাইনের গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ধারাবাহিকতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২৬৭ জনে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সেখানে আরো ৬৯১ জন নিহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরেও সহিংসতা থেমে নেই, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণে অন্তত ৯ প্যালেস্টাইনি নিহত হয়েছেন।এই সংঘাতের প্রভাব ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোতেও পড়েছে।








