
নখকে আমরা অনেক সময় খুব ছোট একটা বিষয় মনে করি। কিন্তু এই ছোট অংশটাই কখনো কখনো নীরবে শরীরের ভেতরের খবর জানিয়ে দেয়।
তাই শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, সুস্থতার জন্যও নখের যত্ন নেওয়া জরুরি।এখন প্রশ্ন হলো নখ কেমন হওয়া উচিত।সাধারণতঃ একটি সুস্থ নখ শান্ত, পরিপাটি আর একরঙা থাকে। এতে কোনো দাগ নেই, নেই গর্ত বা অস্বাভাবিক বাঁক। যেন একেবারে স্বাভাবিকভাবে নিজের কাজ করছে।নখ তৈরি হয় শক্ত প্রোটিন কেরাটিন দিয়ে, আর নখের গোড়ায়,কিউটিকলের নিচে জন্ম নিয়ে ধীরে ধীরে বড় হয়।এদিকে,বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নখে হালকা দাগ বা রেখা দেখা দিতে পারে।এটা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। আবার আঘাত লাগলে সাদা দাগ বা রেখাও দেখা যায়, যা সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়।এবার,কখন নখ আপনাকে সতর্ক করছে? এই অবস্থায় নখ যদি আচমকা বদলাতে শুরু করে, সেটাকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়,হঠাৎ রং বদলে যাওয়া বা কালো দাগ দেখা দেওয়া। নখ বাঁকা হয়ে যাওয়া বা আকার পরিবর্তন হওয়া।নখ খুব পাতলা বা অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাওয়া। ছোট ছোট গর্ত বা খাঁজ তৈরি হওয়া। নখ চামড়া থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া। চারপাশে ব্যথা, ফোলা বা রক্তপাত হওয়া। নখ না বাড়া। এই পরিবর্তনগুলো অনেক সময় শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে।অন্যদিকে নখকে সুস্থ রাখা কঠিন কিছু নয়। শুধু একটু নিয়ম মানলেই হয়।যেমন নখ সব সময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। জল বা কেমিক্যাল কাজের সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন।নখ সোজা করে কাটুন, তারপর কিনারা মসৃণ করুন।হাতের লোশন নখ ও কিউটিকলেও দিন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে বায়োটিন নেওয়া যেতে পারে।এছাড়া,কিছু ছোট অভ্যাস নখকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেমন,নখ কামড়ানো বা কিউটিকল উঠিয়ে ফেলা। ঝুলে থাকা নখ টেনে ছেঁড়া। বেশি নেইল পলিশ রিমুভার ব্যবহার। সমস্যা দেখা দিলে তা উপেক্ষা করা। পাশাপাশি সাজগোজের জন্য সেলুনে গেলেও কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যেমন পরিচ্ছন্ন ও লাইসেন্সধারী সেলুন বেছে নিন।কিউটিকল কেটে ফেলতে দেবেন না।
যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত কি না নিশ্চিত হয়ে নিন আগে।কোনো পণ্যে অ্যালার্জি থাকলে আগে জানান।
আসলে,নখের যত্ন কোনো কঠিন কাজ নয়। একটু সচেতনতা, আর কিছু ভালো অভ্যাস, এই দু’ মিলেই নখ থাকে শক্ত, পরিষ্কার আর সুন্দর।









