
উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড এখন আর বিরল সমস্যা নয়। আগের তুলনায় অনেক কম বয়সেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
হঠাৎ করে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা, পায়ের আঙুল বা হাঁটু ফুলে যাওয়া, কিংবা এমন এক ধরনের শক্তভাব যা কিছুতেই কমছে না—এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে ইউরিক অ্যাসিড।আসলে,শরীরে থাকা পিউরিন নামের প্রাকৃতিক উপাদান ভাঙার ফলে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা অনেক দৈনন্দিন খাবারেই থাকে।বিষয়টি অবহেলা করলে গেঁটে বাতের তীব্র ব্যথা, কিডনিতে পাথর এবং দীর্ঘমেয়াদে জয়েন্টের ক্ষতি হতে পারে।যখন শরীর যতটা ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করছে, ততটা বের করতে পারছে না, তখন তা জমে গিয়ে স্ফটিকের মতো আকার ধারণ করে এবং জয়েন্টে বসে যায়। ছোট কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এই সমস্যায় বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।শরীর যখন পিউরিন ভেঙে ফেলে, তখন ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়।স্বাভাবিক অবস্থায় এটি রক্তে মিশে প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ইউরিক অ্যাসিড বেশি তৈরি হয় বা কিডনি তা ঠিকমতো বের করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জমে গিয়ে ধারালো স্ফটিক তৈরি করে, যা জয়েন্টে প্রদাহ ও তীব্র ব্যথার কারণ হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড শুধু জয়েন্টের ব্যথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এটি নীরবে কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং চলাফেরার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।অন্যদিকে,খাবারদাবারের সঙ্গে ইউরিক অ্যাসিডের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড বারবার বাড়ার পেছনে খাদ্যাভ্যাস বড় ভূমিকা রাখে। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দরকার হলেও, সঠিক খাবার নির্বাচনই অনেক সময় সবচেয়ে কার্যকর উপায়।ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে যে খাবারগুলো এখনই এড়ানো উচিত তার মধ্যে আছে, লাল মাংস। লাল মাংসে পিউরিনের মাত্রা খুব বেশি থাকে।নিয়মিত খেলে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে এবং গেঁটে বাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অর্গান মিট,এই ধরনের মাংসে অত্যধিক পিউরিন থাকে। ইউরিক অ্যাসিড বেশি বা গাউটের ইতিহাস থাকলে এগুলো সম্পূর্ণ এড়ানো উচিত।পাশাপাশি চিংড়ি, সার্ডিন, অ্যাঙ্কোভি ও শেলফিশ গাউটের বড় ট্রিগার। তুলনামূলক কম পিউরিনযুক্ত মাছ, যেমন স্যালমন বা কড মাঝেমধ্যে খাওয়া যেতে পারে।এছাড়া প্যাকেটজাত খাবার, ভাজাভুজি ও ফাস্ট ফুড শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করে।সেইসঙ্গে,অ্যালকোহল শরীরের ইউরিক অ্যাসিড বের করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বিয়ারে পিউরিন ও অ্যালকোহল,দুটোই থাকায় এটি দ্বিগুণ ক্ষতিকর।অন্যদিকে উদ্ভিজ্জ হলেও বেশি পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই পুরোপুরি বাদ নয়, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।ফ্রুক্টোজযুক্ত পানীয় সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো হাইপারইউরিকেমিয়ার বড় কারণ।আর শেষে পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ, ক্রিম ও চিজ প্রদাহ বাড়াতে পারে।
লো-ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবার তুলনামূলক নিরাপদ।শেষে মনে রাখা দরকার, সময়মতো জীবনযাপনের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত জল পান, ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা,ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে এবং বারবার ব্যথার ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে।









