
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় নতুন এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চীন ও রাশিয়া এবার ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন বাঁকে নিতে চাইছে।
রাশিয়া বরাবরই আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে এসেছে।এবার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চীন আর্কটিক সাগরপথ ব্যবহার করে ইউরোপে পণ্য পাঠানোর একটি পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করেছে।চীনের ইস্তানবুল ব্রিজ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজ নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যাত্রা করেছে। ১৮ দিনের এই যাত্রায় জাহাজটি রাশিয়ার উত্তর উপকূল দিয়ে আর্কটিক সাগরপথ ধরে ব্রিটেনের ফেলিক্সটো বন্দরে পৌঁছাবে। এই রুটে বরফ-ঢাকা পথ পাড়ি দিতে জাহাজটিকে সাহায্য করবে একটি বিশেষ ধরনের আইসব্রেকার।আর্কটিক ইনস্টিটিউটের মাল্টে হ্যাম্পার্টের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিচ্ছে। কারণ, এই অঞ্চলটি খনিজ সম্পদ এবং নতুন বাণিজ্যিক পথের কারণে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করছে।বর্তমানে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর এবং সিঙ্গাপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী পথ দিয়েই হয়ে থাকে। তবে, আর্কটিক সাগরপথ প্রচলিত পথের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম দূরত্বে পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম। এর ফলে সময় এবং খরচ দুইই বাঁচবে।
অন্যদিকে,ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক পথগুলোতে সম্প্রতি নানা ধরনের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গেছে। যেমন, হর্ন অফ আফ্রিকার কাছে জলদস্যুদের আক্রমণ এবং লোহিত সাগরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে, আর্কটিক সাগরপথ একটি নিরাপদ এবং কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








