
দিল্লির নির্বাচনী ইতিহাসে তিন বারই মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই পর্যুদস্ত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল। ইতিহাস বলছে, ১৯৯৮ সালে বিজেপির সুষমা স্বরাজ, ২০১৩ -য় কংগ্রেসের শীলা দীক্ষিত, পরবর্তীতে ২০২৫-এ আপ-র আতিশী মারলেনা।
কাকতালীয়ভাবে বিজেপি এবং কংগ্রেসের পরে এ সেই ধারা বজায় রয়েছে আম আদমি পার্টির ক্ষেত্রেও। ১৯৫২ সালের বিধানসভা ভোটে ৪৮টি আসনের মধ্যে ৩৯টিতে জিতে ক্ষমতা দখল করেছিল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ঘনিষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী ব্রহ্ম প্রকাশ। তিন বছরের মাথায় তাঁকে সরিয়ে শিখ নেতা গুরমুখ নিহাল সিংকে মুখ্যমন্ত্রী করে কংগ্রেস। কিন্তু ১৯৫৬ সালে দিল্লিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করে বিধানসভা বিলুপ্ত করা হয়। তার প্রায় চার দশক পরে ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাওয়ের সরকার দিল্লিকে জাতীয় রাজধানী অঞ্চল ঘোষণা করে ৭০ সদস্যের বিধানসভা গঠন করে। সে বছরের নির্বাচনে ৪৯টি আসনে জিতে দিল্লিতে সরকার গড়েছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মদনলাল খুরানা। কিন্তু গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় ১৯৯৬ সালে খুরানাকে সরিয়ে সাহিব সিংহ বর্মাকে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দেন বিজেপি শীর্ষনেতৃত্ব। তাতে অবশ্য সমস্যা মেটেনি। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৮ সালের অক্টোবরে বিধানসভা ভোটের মাত্র দু’মাস আগে সুষমাকে মুখ্যমন্ত্রী করে লড়তে নেমেছিল পদ্মশিবির। কিন্তু সেই ভোটে ভরাডুবি হয় তাদের। হাউজ খাস আসনে সুষমা নিজে জিতলেও তাঁর দলের ঝুলিতে গিয়েছিল মাত্র ১৫টি আসন। ৫২টি আসনে জিতে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পায় কংগ্রেস।
মুখ্যমন্ত্রী হন শীলা দীক্ষিত। ২০১৩ সালের বিধানসভা ভোটে নয়াদিল্লি আসনে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালের কাছে ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাস্ত হন তিনি। যদিও ২০০৩ এবং ২০০৮ সালের ভোটে শীলার নেতৃত্বেই জয়ের হ্যাটট্রিক করেছিল কংগ্রেস।









