
সাধারণতঃ অফিস কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকালবেলা সময়মতো পৌঁছানোই প্রধান লক্ষ্য। তাই স্নানের পর তাড়াহুড়োয় অনেকেই হেয়ার ড্রায়ারের ওপর নির্ভর করেন।
নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে এই অভ্যাস চুলের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে ড্রায়ার ব্যবহার করেও চুল সুস্থ রাখা সম্ভব। চুলের ক্ষতি এড়াতে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে হিট প্রোটেক্ট্যান্ট ব্যবহার করুন। সেক্ষেত্রে ড্রায়ার ব্যবহারের আগে ভালো মানের হিট প্রোটেক্ট্যান্ট স্প্রে বা সিরাম লাগান।এটি চুলের ওপর সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, অতিরিক্ত তাপের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়।ফলে চুলের ভাঙন কমে, আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং উজ্জ্বলতা ধরে রাখে।পাশাপাশি,প্রতিদিন ড্রায়ার ব্যবহার করলে চুলের প্রাকৃতিক তেল কমে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে সপ্তাহে কয়েকদিন চুল স্বাভাবিক বাতাসে শুকাতে দিন। এতে চুল ও স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় থাকে।ওদিকে,উচ্চ তাপমাত্রা চুলের কিউটিকল স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই লো বা মিডিয়াম হিট সেটিং ব্যবহার করুন। ড্রায়ার চুল থেকে অন্তত ৬–৮ ইঞ্চি দূরে রাখলে সরাসরি তাপের প্রভাব কমে। একদম ভেজা চুলে ড্রায়ার ব্যবহার নয়।স্নানের পর চুল থেকে প্রথমে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে জল শুষে নিন। জোরে ঘষাঘষি করলে কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুল হালকা স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় ড্রায়ার ব্যবহার করলে তাপের সংস্পর্শ কম লাগে।অন্যদিকে,চুল পুরোপুরি শুকিয়ে ফেললে তা রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চুল ৮০–৯০ শতাংশ শুকিয়ে গেলে ড্রায়ার বন্ধ করে দিন।শেষে কুল শট ব্যবহার করুন,ড্রায়িংয়ের শেষ পর্যায়ে কুল শট বা ঠান্ডা বাতাস ব্যবহার করলে চুলের কিউটিকল স্তর বন্ধ হতে সাহায্য করে। এতে চুল বেশি মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখায়, ফ্রিজও কমে।
সব মিলিয়ে সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে হেয়ার ড্রায়ার চুলের ক্ষতির কারণ নয়, বরং সময় বাঁচানোর কার্যকর উপায় হতে পারে। তবে অতিরিক্ত তাপ ও অনিয়মিত ব্যবহারে চুলের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে,সে বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।









