
সাধারণতঃ বলা হয় সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নানা ধরনের ফল ও শাক-সবজি রাখা জরুরি। তাতেই শরীর পায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার।
তবে এমন কিছু সবজি আছে, যেগুলোর উপকারিতা অনেক হলেও অনেকেই সেগুলো এড়িয়ে চলেন। বাঁধাকপি তেমনই একটি সবজি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত একবার এই ক্রুসিফেরাস সবজিটি খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।কারণ বাঁধাকপি ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং ফাইবারে ভরপুর। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমায়। বাঁধাকপিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগ ও কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।এই অবস্থায় কম ক্যালরি হওয়ায় ওজন কমাতে চাইছেন যারা, তাদের কাছেও বাঁধাকপি একটি ভালো বিকল্প। এতে থাকা উপকারী যৌগ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তবে এত গুণ থাকা সত্ত্বেও কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাঁধাকপি খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে।বাঁধাকপিতে র্যাফিনোজ নামের একটি জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা মানবদেহ পুরোপুরি হজম করতে পারে না। এর ফলে অন্ত্রে গাঁজন শুরু হয় এবং গ্যাস, পেট ফাঁপা ও ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি এতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সংবেদনশীল পেট বা আইবিএস থাকলে ডায়েরিয়ার ঝুঁকিও থাকে।পাশাপাশি,কিডনির রোগীদের জন্য বাঁধাকপি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে থাকা অক্সালিক অ্যাসিড ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে কিডনিতে পাথর তৈরির আশঙ্কা বাড়ায়। অতিরিক্ত অক্সালিক অ্যাসিড কিডনির পরিস্রাবণ ক্ষমতাও ব্যাহত করতে পারে।ওদিকে,বাঁধাকপির মতো ক্রুসিফেরাস সবজিতে গয়ট্রোজেন নামক যৌগ থাকে, যা থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।বিশেষ করে বেশি পরিমাণে বাঁধাকপি খেলে আয়োডিন শোষণে সমস্যা হয়।অন্যদিকে গলগণ্ড বা থাইরয়েডের অসুখ থাকলে বাঁধাকপি এড়িয়ে চলাই ভালো।বাঁধাকপি ভিটামিন কে সমৃদ্ধ, যা রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।হৃদরোগের কারণে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে বাঁধাকপি ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এই অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাঁধাকপি খাওয়া উচিত নয়।এছাড়াও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বাঁধাকপিতে থাকা প্রাকৃতিক হিস্টামিন অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।এর ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, চোখে জল, হাঁচি, নাক বন্ধ হওয়া বা হাঁপানির উপসর্গ বাড়তে পারে। খুব বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর প্রতিক্রিয়াও দেখা যেতে পারে।সেইসঙ্গে,গর্ভাবস্থায় হজমজনিত সমস্যা স্বাভাবিক।বাঁধাকপিতে থাকা র্যাফিনোজ গ্যাস ও পেটব্যথা বাড়াতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন্যদানকারী মায়েরা অতিরিক্ত বাঁধাকপি খেলে তার প্রভাব দুধের মাধ্যমে শিশুর পেটে গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এই সময়ে সীমিত পরিমাণে বাঁধাকপি খাওয়াই নিরাপদ।সব শেষে বলা যায়, বাঁধাকপি নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর সবজি।
তবে সব খাবারের মতোই এটি সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। শরীরের অবস্থা ও রোগভেদে পরিমিত ও সচেতনভাবে বাঁধাকপি খাওয়াই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।









