
সাধারণতঃ চোখ নিত্যদিনে নীরব সহযাত্রী,রোদ, ধুলা, ধোঁয়া কিংবা তাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিরন্তর কাজ করে যায়। অথচ যত্নের তালিকায় চোখ অনেক সময়ই থাকে উপেক্ষিত।
অতি গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গের এমন অবহেলার মূল্য কখনো কখনো বেশ চড়া হতে পারে।এদিকে রোদ শুধু ত্বক নয়, চোখও পোড়ায়। গ্রীষ্মের উজ্জ্বল আলো হোক কিংবা পাহাড়-সমুদ্রের ঝলমলে অনাবিল পরিবেশ,সবই দেখতে সুন্দর। কিন্তু চোখের জন্য তা সবসময় নিরাপদ নয়। দীর্ঘ সময় তীব্র অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে চোখে ফটোকেরাটাইটিস হতে পারে, যা অনেকটা সানবার্নের মতো।এতে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ব্যথা, এমনকি আলো সহ্য করতে না পারার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এমন অবস্থায় ব্যবহার করতে হবে রোদচশমা। কারণ এটি কেবল ফ্যাশন নয় সুরক্ষার জন্যও অপরিহার্য।ওদিকে,চোখেরও ঘুম প্রয়োজন।কিন্তু কন্ট্যাক্ট লেন্স পরে ঘুমানো সেই স্বস্তিকে ব্যাহত করে। ঘুমের সময় চোখে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, অশ্রু উৎপাদনও হ্রাস পায়। ফলে এটি কর্নিয়ার সঙ্গে লেগে ক্ষতির কারণ হতে পারে। একটু অলসতা বা ভুলে যাওয়া,এই ছোট অভ্যাসই বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। তাই দিনশেষে ক্লান্ত শরীর যখন বিশ্রাম চায়, তখন চোখেরও স্বস্তি দিন।অন্যদিকে,স্ক্রিনে ডুবে শুকিয়ে যাচ্ছে চোখ।ডিজিটাল জীবনে মোবাইল কিংবা কম্পিউটার স্ক্রিন এড়ানো প্রায় অসম্ভব। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকা ক্ষতিকর। কারণ এর কারণে আমরা কম পলক ফেলি। আর তাতেই চোখ শুষ্ক হয়ে ওঠে। এই সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে ২০-২০-২০ নিয়ম, অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিটে ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা।এই ছোট বিরতিই চোখ পাবে প্রয়োজনীয় আরাম।পাশাপাশি,চোখের জানালায় তাকালে শরীরের গোপন রোগের সংকেতের দেখা মেলে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হৃদরোগ,এসবের ইঙ্গিতও ধরা পড়ে চোখের পরীক্ষায়। তাই নিয়মিত চেকআপ কেবল চোখের সুস্থতার জন্য নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হওয়া উচিত।
তাই চোখের যত্নকে বিলাসিতা মনে করা ঠিক নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতনতা,রোদচশমা পরা, সময়মতো লেন্স খোলা, স্ক্রিন থেকে সামান্য বিরতি এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা—এই সামান্য অভ্যাসগুলোই চোখ নিরাপদ রাখতে পারে।









