
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা–ইসরায়েল সংঘর্ষ আর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। যুদ্ধ এতটাই এলোমেলো এবং বিস্তৃত যে দু’ পক্ষই সমাধানের পথে এগোচ্ছে না, বরং একে অপরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে, ফলে ভবিষ্যৎ এখনো অজানা। ইরানে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং বহু আবাসিক এলাকা হামলার শিকার হয়েছে।
পাশাপাশি জলপথেও হামলা থেমে নেই।যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়ছে। শেষ তিনটিসহ মোট ১৬টি কার্গো জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এদিকে,হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাচ্ছে।এ অঞ্চলে জল শব্দটি শুনতে সহজ মনে হলেও এর গুরুত্ব অনেক। সামরিক সংঘাত বাড়তে থাকলে জল ভূ-রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করতে পারে।কারণ,পারস্য উপসাগরের দেশগুলোর কাছে রয়েছে প্রচুর তেল ও গ্যাস কিন্তু জল তাদের কাছে সীমিত। ১৯৭০-এর দশক থেকে তেলের অর্থ ব্যবহার করে এই সমস্যার সমাধান করা হয় এবং বসানো হয়‘ডিসেলিনেশন প্লান্ট। এই অঞ্চলে প্রায় ৪৫০টি ডিসেলিনেশন বা জল শোধনাগার রয়েছে। বাসিন্দারা যাতে জলের অভাবে না ভোগে তাই এই ব্যবস্থা।যুদ্ধে জল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
এই কেন্দ্রগুলো এসব দেশের মিষ্টি জলের প্রধান উৎস।ডিসেলিনেশনে সাধারণত দুটি প্রধান পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। ডিসেলিনেশন প্ল্যান্ট মূলত সমুদ্রের লবণাক্ত জলকে সুপেয় মিষ্টি জলেতে রূপান্তরিত করে। এই জল শুধু পানের জন্য নয়, সেচ ও শিল্প কারখানায়ও ব্যবহার করা হয়।









