
শীতের আমেজ এখনো পুরোপুরি নামেনি, তবু তাপমাত্রা একটু কমলেই শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। এই সময় অনেকেরই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।
বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে এ সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ সময়ে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় শরীরের বিপাকীয় হার কিছুটা কমে যায়। এতে শরীর কম ক্যালরি খরচ করে এবং ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পায়। এ ছাড়া শীতে অনেকেই ব্যায়াম কম করেন, বাইরে বের হতেও অনীহা দেখা দেয়,এই দুই কারণেই শরীরে গ্লুকোজ জমতে শুরু করে। আর এটিই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।শীতকালে মানুষ তুলনামূলকভাবে ভারী খাবার খেতে পছন্দ করেন। পিঠা, মিষ্টি, ভাজা বা পোড়া,এসব খাবারে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি থাকে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে।বেশি করে সবুজ শাক-সবজি ও ফল খাওয়া উচিত।সেইসঙ্গে কম কার্বোহাইড্রেট ও কম চর্বিযুক্ত খাবার বেছে নিতে হবে। অতিরিক্ত মিষ্টি বা ভাজা খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি।এদিকে ঠাণ্ডার সময় অনেকেই কম জল পান করেন। যা শরীরের শর্করা বিপাকে প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করা দরকার।চিকিৎসকরা বলছেন,ডায়াবেটিক রোগীদের উচিত নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা।যদি রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিতে হবে। এর বাইরে,কোন কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন? উত্তর হল,ঘন ঘন প্রস্রাব,অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া,হঠাৎ ওজন কমে বা বেড়ে যাওয়া,ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি।এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত র্যান্ডম ব্লাডসুগার ও এইচবিএ১সি পরীক্ষা করানো উচিত, যাতে গত কয়েক মাসের গড় শর্করার মাত্রা জানা যায়। সেইসঙ্গে,নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে, বিশেষত যাদের উচ্চ রক্তচাপও আছে।প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন।মানসিক চাপ কমান—ধ্যান বা মেডিটেশন উপকারী।প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমান।বাইরে ঠাণ্ডা থাকলে ঘরে বসেই হালকা ব্যায়াম করুন।
সব মিলিয়ে,শীতের সময়ে ডায়াবেটিক রোগীদের শুধু খাবার নয়, জীবনযাত্রার প্রতিটি দিকেই সচেতনতা দরকার। আবহাওয়া ঠাণ্ডা হলেও নিয়ম মেনে ব্যায়াম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলেই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।









