
ঠোঁটের শুষ্কতা কেবল শীতের সিজনে নয়, সারা বছর হয়ে থাকে। অনেকের আবার ঠোঁট অতিরিক্ত শুকিয়ে যায়। চামড়া ওঠে। দেখায় রুক্ষ। আবার অনেকের ঠোঁট কামড়ানোর অভ্যাস রয়েছে। যা ঠোঁটের ক্ষতির অন্যতম কারণ।রূপ বিশেষজ্ঞদের মতে,ঠোঁটের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি সেনসেটিভ।তাই শীতের শুষ্কতায় ঠোঁটের ক্ষতিও হয় বেশি।
ঠোঁট ফেটে যাওয়া বা চামড়া উঠে পাতলা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা অনেক সময় লিপবাম ব্যবহারেও সমাধান হয় না। তবে প্রাকৃতিকভাবে খুব সহজেই এ সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে প্রথমেই আসবে ঠোঁটের মৃত কোষ দূরীকরণ। এজন্য নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন করতে পারেন। পরিষ্কার ভেজা কাপড় বা তুলায় চিনি নিয়ে ঠোঁটে আলতো করে ঘষে নিলে ঠোঁটের মৃত কোষ কিংবা মরা চামড়াগুলো উঠে যাবে। এর বাইরে ঠোঁট ম্যাসাজ ও ফ্ল্যাকিনেস দূর করতে ঘরে তৈরি স্ক্র্যাব ব্যবহার করাই ভালো। যা তৈরিতে প্রয়োজন হবে মধু ও চিনি।ঘন মিশ্রণ তৈরি করে ঠোঁটে লাগিয়ে ম্যাসাজ করলেই মৃত কোষ উঠে আসবে।এরপর ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ঠোঁটে নারকেল তেল লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়।এই অবস্থায় ঠোঁটে হালকা চিনি দিয়ে হালকা করে স্ক্র্যাবিং করার চেষ্টা করুন। এতে ঠোঁট সতেজ হবে।পরিষ্কার টুথব্রাশ দিয়েও হালকা করে ঠোঁটে স্ক্র্যাব করতে পারেন। এতেও ঠোঁটে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যাবে। ঠোঁট হবে গোলাপি, আকর্ষণীয়।আবার,এক চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে এক চিমটি দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে ঠোঁটে মিনিট দশেক মাখিয়ে রাখুন। তারপর হালকা গরম জলেতে ধুয়ে ফেলুন। পার্থক্যটা নিজেই দেখতে পাবেন।এছাড়া,ঠোঁটকে সতেজ, আকর্ষণীয় করে তুলতে নিয়মিত সিরাম ব্যবহার করুন। ঠোঁটের সিরাম হিসেবে নারিকেল তেল, আমন্ডের তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। উপকৃত হবেন।ওদিকে,এক চামচ মধুর সঙ্গে কিছুটা ব্রাউন সুগার মিশিয়ে ওই মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগিয়ে আলতো করে মালিশ করুন। কিছুক্ষণ ক্লক ওয়াইজ, তারপর আবার কিছুক্ষণ ক্লক ওয়াইজ স্ক্র্যাব করুন।এভাবে কিছুক্ষণ স্ক্র্যাবিংয়ের পর ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ঠোঁট হয়ে উঠবে গোলাপি, নরম এবং আকর্ষণীয়।
এই তো গেল ঠোঁটের এক্সফোলিয়েশনের নানা ব্যবহারিক কার্যক্রম। এবার ঠোঁটের ময়েশ্চার লক করা। ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে বেছে নিতে পারেন পুষ্টিসমৃদ্ধ লিপ বাম। অন্যদিকে শুষ্ক ঠোঁটের জন্য সবচেয়ে ভালো শিয়া বাটার, নারকেল তেল, কোকো বাটার, হায়ালুরনিক অ্যাসিড আছে এমন লিপ বাম। এ ছাড়া আমাদের বিশ্বস্ত ভ্যাসলিন তো আছেই। ঠোঁটের আর্দ্রতা রক্ষায় এটি কতটা কার্যকর, তা সবাই ভালো জানেন।









