গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

29 C
Kolkata
29 C
Kolkata
More
    Home Lifestyle শীতে সারা দিন মন খারাপ 

    শীতে সারা দিন মন খারাপ 

    0
    121
    ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    শীতের সময়ে অনেকের জীবনে অদ্ভুত মনখারাপ নেমে আসে। দিনের আলো কমে যাওয়া, ঠাণ্ডা আবহাওয়া আর দীর্ঘ রাতের কারণে শরীর ও মনের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হতে শুরু করে।

    এটিকে বলা হয় মৌসুমি বিষণ্নতা বা শীতকালীন ডিপ্রেশন।এই অবস্থাটি সাধারণ অলসতা বা সাময়িক মন খারাপ নয়।বরং একটি মানসিক অবস্থান, যেখানে মানুষ অকারণ ক্লান্তি, আগ্রহহীনতা, অতিরিক্ত ঘুম বা ঘুমের সমস্যা, খিদে কমে যাওয়া কিংবা বেড়ে যাওয়া এবং নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতায় ভোগে। এখন প্রশ্ন হলো,কেন শীতকাল শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে?শীতকালে দিনের আলো কমে যাওয়ার ফলে শরীরের ভেতরে থাকা জৈবিক ঘড়ি বা সার্কেডিয়ান রিদমের ওপর এর প্রভাব পড়ে। এর ফলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা ভালো থাকার অনুভূতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।একই সঙ্গে মেলাটোনিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে অতিরিক্ত ঘুম ভাব তৈরি হয়। এই কারণেই শীতকালে অনেকেই নিজেকে ভারী, নিষ্প্রাণ এবং মানসিকভাবে দুর্বল অনুভব করেন। এই অবস্থায় আলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।প্রাকৃতিক সূর্যালোক শরীরের জন্য এক ধরনের ওষুধের মতো কাজ করে। শীতকালে চেষ্টা করা উচিত দিনের আলো থাকতেই বাইরে বের হওয়া।অন্যদিকে রোদ কম থাকলেও খোলা আকাশের নিচে কিছু সময় কাটালে মস্তিষ্ক ইতিবাচক সংকেত পায়।ঘরের ভেতরে থাকলেও জানালার পাশে বসা, পর্দা সরিয়ে আলো ঢোকানো বা দুপুরে অল্প হাঁটাহাঁটি করার মতো অভ্যাস মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। আসলে,মানসিক যত্ন বা নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া শীতকালীন বিষণ্নতা কাটানোর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে নিজের জন্য ছোট মুহূর্ত তৈরি করা মানসিক শক্তি বাড়ায়।সকালে বা সন্ধ্যায় কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মন দেওয়া, উষ্ণ পানীয় হাতে নিয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বা প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি ছোট রুটিন মেনে চলা মনের ভেতরে স্থিরতা আনে।একই সঙ্গে নিজেকে দোষারোপ না করে নিজের সঙ্গে সদয় আচরণ করাও মানসিক সুস্থতার জন্য জরুরি। শরীরচর্চা শীতকালীন বিষণ্নতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্রগুলোর একটি। নিয়মিত হাঁটা, হালকা যোগাসন বা ঘরের মধ্যেই কিছু স্ট্রেচিং শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা স্বাভাবিকভাবেই মন ভালো রাখে।খুব বেশি কষ্টকর ব্যায়াম না হলেও সপ্তাহে কয়েক দিন নিয়মিত নড়াচড়া করলে ক্লান্তি কমে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। পাশাপাশি,ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা শীতকালে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।দিনের আলো কম থাকার কারণে অনেকেই বেশি ঘুমিয়ে ফেলেন বা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে রাখে। সেইসঙ্গে দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে থাকা বা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম এড়িয়ে চললে মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে। শীতকালে অনেকেই ধীরে সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেন, যা বিষণ্নতাকে আরো বাড়িয়ে তোলে। এই সময় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা বা ছোট সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানসিকভাবে খুবই উপকারী।খুব বড় আড্ডা না হলেও নিয়মিত যোগাযোগ মানুষকে একাকিত্ব থেকে দূরে রাখে এবং মনের ভেতরে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতকালীন বিষণ্নতা জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে বাধা সৃষ্টি করলেও কিছু সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আলো, শরীরচর্চা, ঘুম, সামাজিক যোগাযোগ এবং নিজের প্রতি যত্ন,এই কয়েকটি বিষয় নিয়মিত মেনে চললেই শীতের অন্ধকার দিনগুলোও হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি সহনীয় ও উজ্জ্বল।