
কঠিন কাজটাই সহজ করলেন মহম্মদ সিরাজ। এই সিরিজ় সিরাজের।
প্রায় ১২০০ বল করেছেন। সবচেয়ে বেশি ২৫টা উইকেট নিয়েছেন। দু’দল মিলিয়ে তিনিই একমাত্র পেসার যিনি পাঁচটা ম্যাচই খেলেছেন। শেষ দিন যখন একটা একটা রান করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে ইংল্যান্ড তখনও হাল ছাড়েননি তিনি। তাঁর বলে গাস অ্যাটকিনসনের স্টাম্প উড়ে যাওয়ার পরে দু’হাত ছড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালেন সিরাজ। তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন বাকিরা। তত ক্ষণে অসাধ্যসাধন করে ফেলেছে ভারত। নাটকীয় সিরিজ়ের মহানাটকীয় সমাপ্তি হয়েছে।পঞ্চম দিন পরিসংখ্যান স্পষ্ট ছিল। ওভালে টেস্ট ও সেই সঙ্গে সিরিজ় জিততে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩৫ রান।টেস্ট জিতে সিরিজ় ড্র করতে ভারতের দরকার ছিল ৪ উইকেট। শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করল ভারত। পিছিয়ে থেকেও সিরিজ় ড্র করল তারা। মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও আকাশদীপ বুঝিয়ে দিলেন, ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা। সেখানে শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যায় না। ওভালে নাটকীয় সিরিজ়ের নাটকীয় সমাপ্তি হল। ১-৩ সিরিজ়ে হারের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ২-২ সিরিজ় ড্র করলেন শুভমন গিলেরা। ইংল্যান্ডের মাটিতে পর পর দুটো সিরিজ় ২-২ ড্র করল ভারত। কোচ হিসাবে টেস্ট সিরিজ় হারের লজ্জা থেকেও বাঁচলেন গৌতম গম্ভীর।সিরিজ় ড্র হলেও লড়াই করেছে ভারত। হেডিংলে ও লর্ডস ভারত জিততে পারত। এই সিরিজ়ে ভারতের প্রাপ্তি অনেক। ব্যাট হাতে অধিনায়ক শুভমনের ফর্ম। উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্থের ফর্মে ফেরা। এজবাস্টনে আকাশদীপের বোলিং। রবীন্দ্র জাডেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দরের ব্যাট হাতে ছন্দ। ম্যাঞ্চেস্টারে প্রায় দু’দিন ব্যাট করে ভারতের ম্যাচ বাঁচানোও সেই তালিকায় থাকবে। সিরিজ়ে ৩১টা সেশন জিতেছে ভারত। ইংল্যান্ড জিতেছে ২২টা। কিন্তু তার পরেও সিরিজ় জিততে পারেনি ভারত। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভুল করেছে তারা। সেখানেই খেলার রাশ উল্টোদিকে চলে গিয়েছে।
নইলে ইংল্যান্ডকে তাদের মাটিতে ৪-০ হারানোর সম্ভাবনা ছিল। গোটা সিরিজ়ে লড়াই করলেও জিততে পারল না ভারত।









