
ইরানের শহিদ রাজাই বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০। তার মধ্যে দুই মহিলাসহ মাত্র ১০টি দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। এদিকে শনিবার রাত থেকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হওয়ার পর সোমবারও আকাশপথে হেলিকপ্টার ও বিমান থেকেও আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।
আগুন নেভানোর সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের একাংশে কাজকর্ম ফের চালু হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের কারণে বায়ু দূষণের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে অ্যামোনিয়া, সালফার-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বিপজ্জনক হারে বেড়ে গিয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি তৈরিতে যে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, মার্চ মাসে চিন থেকে দু’টি জাহাজে করে তেমনই কিছু বিপজ্জনক রাসায়নিক এসেছিল ওই বন্দরে। সেই রাসায়নিক সংরক্ষণে সতর্কতার অভাব ছিল। সেখান থেকে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জানুয়ারি মাসে এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল,ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারে জ্বালানি তৈরির জন্য ওই রাসায়নিক আমদানি করা হচ্ছে। সেই ক্ষেপণাস্ত্র গাজ়ার যুদ্ধে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার হয়েছে।এর আগে বন্দরে মজুত রাখা বিপজ্জনক রাসায়নিক থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে দাবি প্রশাসনেরও। এ দিকে, শনিবারেই ওমানে আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে তৃতীয় দফায় আলোচনায় বসেছিল ইরান।
তার মধ্যে এই বিপুল বিস্ফোরক বন্দরে জমা হওয়ার খবরে ইরান সরকার খানিক হলেও অস্বস্তিতে পড়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, অভ্যন্তরীণ স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে আগেও নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলেছে। অতর্কিতে হামলা হয়েছে ইরানের উপরে। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী আগেই সতর্কতার বার্তা দিয়েছিল।






