
গাজা যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা সফল হয়নি,এমনটি এক প্যালেস্টাইনি কর্তা জানিয়েছেন।আমেরিকা হামাসকে কাতারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সম্পূর্ণ অবাস্তব দাবি তোলার জন্য অভিযুক্ত করেছে।আলোচকরা প্রথম দফার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পদক্ষেপ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন, যা ১ মার্চ শেষ হয়।
আমেরিকা প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, যার মধ্যে হামাসের হাতে থাকা আরও পণবন্দী ও ইসরায়েলে থাকা প্যালেস্টাইনি বন্দীদের বিনিময় অন্তর্ভুক্ত ছিল।কিন্তু নাম প্রকাশ না করা এক প্যালেস্টাইনি কর্তা বলেছেন,মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবিত সমঝোতার মূল বিষয়গুলো নিয়ে ইসরায়েল ও হামাস বিরোধে লিপ্ত ছিল।
এদিকে,ইসরায়েল এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি ইসরায়েলের আলোচক দলের কাছ থেকে রিপোর্ট পাবেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস হামাসকে সম্পূর্ণ অবাস্তব দাবি তোলার জন্য অভিযুক্ত করেছে, যা উইটকফের প্রস্তাবের প্রতি হামাসের প্রতিক্রিয়া ছিল।
এর আগে আমেরিকা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়, কিন্তু স্থায়ী যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য আলোচনা বিলম্বিত করতে চায়। উইটকফের অফিস ও আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামাস খুব ভুল ধারণা করছে যে সময় তাদের পক্ষে। কিন্তু তা নয়।হামাস সময়সীমা সম্পর্কে ভালোভাবেই জানে এবং যদি তারা তা অতিক্রম করে, তবে আমেরিকা যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
অন্যদিকে হামাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,আলোচনা ভেঙে পড়েছে। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় আগেই বলেছিল, ইসরায়েল মার্কিন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। তারা বলেছে, হামাস নিজের অবস্থানে অটল ও এক মিলিমিটারও পিছু হটেনি। পাশাপাশি হামাসকে প্রলুব্ধকরণ ও মানসিক যুদ্ধ চালানোর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,ইসরায়েল ও হামাস জানুয়ারিতে ১৫ মাসের যুদ্ধের পর তিন পর্যায়ে এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল। প্রথম পর্যায়ে হামাস ২৫ জন জীবিত ইসরায়েলি পণবন্দী ও আটটি মৃত পণবন্দীর দেহাবশেষ এবং পাঁচ জীবিত থাই পণবন্দীকে ফেরত দেয়। এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় এক হাজার ৮০০ প্যালেস্টাইনী বন্দিকে মুক্তি দেয়।
চুক্তির পরবর্তী পর্যায় অনুযায়ী, গাজায় থাকা বাকি জীবিত পণবন্দীদের বিনিময়ে আরো প্যালেস্টাইনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে।তবে উভয়পক্ষ বর্তমানে পরবর্তী মুক্তির জন্য বন্দিদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধে লিপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি তারা গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়েও বিরোধে রয়েছে, যেটি মূল চুক্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে হওয়া উচিত ছিল বলে উল্লেখ ছিল। ইসরায়েল এই পয়েন্টে বিরোধিতা করে। তবে হামাস দাবি করে, এটি অবশ্যই ঘটতে হবে।
এ ছাড়া ইসরায়েল গাজায় সব ধরনের সাহায্য ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়েছে, যার মধ্যে খাবার ও জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত এবং এটি হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পিত বলে জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গাজায় এখনো ২৪ জন জীবিত পণবন্দী এবং ৩৫ মৃত পণবন্দীর দেহাবশেষ রয়েছে।
এর আগে পরোক্ষ আলোচনার সময় হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,তারা শেষ জীবিত ইসরায়েলি-মার্কিন পণবন্দীকে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত, সে সম্পর্কে তারা বিস্তারিত জানাবে। এডান আলেকজান্ডার গাজার কাছে ইসরায়েলি সেনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অপহৃত হয়েছিলেন। মূল যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তাকে সবচেয়ে শেষের পণবন্দীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল।তারা আরো জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা থেকে পণবন্দী করা আরো চারজন দ্বৈত নাগরিকের দেহাবশেষও হস্তান্তর করবে। তবে তারা আর কোনো বিস্তারিত জানায়নি বা কোনো প্রতিদান দাবির কথা স্পষ্ট করেনি।উইটকফ ওই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, হামাস জনগণের সামনে নমনীয় ভাব প্রকাশ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু আসলে তা বাস্তবসম্মত নয়।









