
নদিয়ার হাঁসখালি গণধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তৃণমূল নেতার ছেলে সোহেল গয়ালি সহ ৩ জনের আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে রানাঘাট মহকুমা আদালত। সোমবারই হাঁসখালিকাণ্ডে ৯ জনকে দোষী সাবস্যস্ত করে আদালত।
মঙ্গলবার তৃণমূল নেতার ছেলে সোহেল গয়ালি ওরফে ব্রজ, তাঁর ২ বন্ধু প্রভাকর পোদ্দার, রঞ্জিত মল্লিককে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন বিচারক। সোহেলের বাবা তদকালীন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য সমরেন্দ্র গয়ালি, পীযূষকান্তি ভক্ত, দীপ্ত গয়ালিকে ৫ বছরের জেলের সাজা দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি আকাশ বারুই এবং সুরজিৎ রায়কে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে আপাতত জামিনে রেখে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এক বছর পর আদালত তাঁদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। এদের মধ্যে একজন নাবালক এবং ঘটনার সময় আরেকজনের বয়স ২০ বছর ছিল। বয়সের দিকে তাকিয়ে এবং গুড বিহেভিয়ার জন্য আপাতত তাদের জামিন দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে প্রতিবেশী অংশুমান বাগচির বিরুদ্ধে নির্যাতিতার পরিবারকে ভয় দেখানো, নাবালিকার দেহ শ্মশানে নিয়ে যেতে বাধ্য করা এবং সম্মিলিত ষড়যন্ত্রে শামিল হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। আদালতের রায় শোনার পর দোষীদের পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। ২০২২-র ৫ এপ্রিল তৎকালীন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলে সোহেলের জন্মদিনে নিমন্ত্রিত নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল নির্যাতিতাকে। এমনকি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তার মৃত্যু হলে প্রমাণ লোপাটের জন্য তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ২০২২-র ১০ এপ্রিল অভিযোগ দায়ের হয়।
পরে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। এরপরেই তদন্ত ভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।






