
২০২৩ সাল বলিউড ছিল তারকাময়, চমকপ্রদ ও বক্স অফিসে দাপটের বছর। শাহরুখ খানের পাঠান আর জওয়ান, সানি দেওলের গদার টু , রণবীর কাপুরের অ্যানিমেল, সালমানের টাইগার থ্রি, রণবীর-আলিয়ার রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি, শ্রদ্ধা-রণবীরের তু ঝুটি ম্যায় মাক্কার, অক্ষয়ের ওহ মাই গড টু,এগুলোই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।
ওটিটিতেও মুক্তি পেয়েছে বড় বাজেটের আলোচিত বেশ কিছু সিনেমা। কারিনা কাপুর খান, বিজয় ভার্মা ও জয়দীপ অহলাওয়াতের জানে জা,মনোজ বাজপেয়ির সির্ফ এক বান্দা কাফি হ্যায়, মনোজ বাজপেয়ি ও শর্মিলা ঠাকুরের গুলমোহর, সুতারিয়ার ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপূর্বা’র মতো সিনেমা ছিল এ তালিকায়। বড় তারকার ছড়াছড়ি, অ্যাকশন-থ্রিলার, রোমান্স আর রাজনীতিস্পর্শী জনপ্রিয় গল্পগুলোর ভিড়ে অনেকটা নীরবে, নির্ভারভাবে এগিয়ে গেছে একটি ছবি ,কাঁঠাল আ জ্যাকফ্রুট মিস্ট্রি। যদিও বক্স অফিসের হিসাবটা এ সিনেমার ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়। এদিকে মৌসুম এখন কাঁঠালের। ওটিটিতে মুক্তি,অনাড়ম্বর আয়োজন। এ ছবিতে না ছিল খান, কাপুর, দীপিকা কিংবা আলিয়াদের মতো বড় তারকা, না ছিল চমকে দেওয়া বাজেট, না ছিল বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশ। ছিল শুধু এক ব্যতিক্রমী ভাবনা, ছিল সমাজব্যবস্থাকে আয়নায় দেখানোর সাহস, ছিল মৌলিক চিত্রনাট্য আর সূক্ষ্ম রসবোধে নির্মিত ব্যঙ্গ। আর এই ব্যতিক্রমী শক্তিতেই সিনেমাটি পেয়েছে ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা হিন্দি ফিচার ফিল্মের স্বীকৃতি।এই সিনেমার নায়ক কাঁঠাল। ঠিক শুনেছেন।,একজোড়া কাঁঠাল চুরি ঘটনা নিয়ে সিনেমা। শুনে মনে হতে পারে এটি নিছক হাস্যকর কিছু। ঠিক এই ঘটনাকেই উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে কাঁঠাল-এর কাহিনি। এক বিধায়কের বাড়ির আঙিনা থেকে চুরি যায় ,আংকেল হং প্রজাতির দুটি দুর্লভ কাঁঠাল। এ নিয়ে শুরু হয় রীতিমতো থানায় অভিযোগ, তদন্ত ও চাপে-চাপা এক ন্যাশনাল ক্রাইসিস। কারণ, এই কাঁঠাল মুখ্যমন্ত্রীর খুব প্রিয়। আর যদি ঠিকমতো তা উপহার না দেওয়া যায়, তাহলে বিধায়কের মন্ত্রী পদ পাওয়া আটকে যেতে পারে।এই গুরুতর মামলার তদন্ত পড়ে সানিয়া মালহোত্রা অভিনীত পুলিশ কর্মকর্তা মহিমা বসুর কাঁধে। তদন্ত যতই এগোয়, শুধু কাঁঠালের খোঁজ নয়, তার চেয়েও বড় এক সত্য উন্মোচিত হতে থাকে। এক নিখোঁজ তরুণী, রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনের ভেতরের অকার্যকর কাঠামো, মিডিয়ার নাটকীয়তা,সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মারাত্মক রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র।সিনেমায় সানিয়া মালহোত্রার কথা আলাদা করে বলতেই হয়। ১০ হাজার টাকা নিয়ে মুম্বাই শহরে এসেছিলেন তিনি।সেই অভিনেত্রী এখন আলোচিত নিজের যোগ্যতায়। দঙ্গল দিয়ে শুরু। এরপর ওটিটি ও বড় পর্দার একের পর এক প্রশংসিত সিনেমায় দেখা গেছে সানিয়া মালহোত্রাকে।
বাণিজ্যিক, শৈল্পিক ঘরানার সিনেমার নিয়মিত অভিনেত্রী তিনি। পাগলেট, লুডো, বাধাই হো, পাগলায়িত, মীনাক্ষী সুন্দরেশ্বর,সানিয়া মালহোত্রা বলিউডে বরাবরই চুপচাপ কিন্তু ধারালো উপস্থিতির নাম। কাঁঠাল-এ তাঁকে দেখা গিয়েছে এক আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু সংবেদনশীল পুলিশ কর্তার চরিত্রে। বাস্তব জীবনের এক মহিলা পুলিশের সঙ্গে সময় কাটিয়ে স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষা শেখার মাধ্যমে সানিয়া মালহোত্রা এই চরিত্রকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন।









