
প্রত্যাশামাফিক দেশের সপ্তদশ উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছে এনডিএ প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণণ। সংসদের দুই কক্ষেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই নির্বাচনে সিপি রাধাকৃষ্ণণের জয় প্রত্যাশিতই ছিল।
ভোটের ফলাফল অনুযায়ী ইন্ডিয়া প্রার্থী বি সুদর্শন রেড্ডিকে ১৫২ ভোটে হারিয়ে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন এনডিএ প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণণ। এনডিএ প্রার্থী রাধাকৃষ্ণণ পেয়েছেন ৪৫২টি ভোট। ইন্ডিয়া প্রার্থী সুদর্শন পেয়েছেন ৩০০টি ভোট। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সাংসদদের। লোকসভার ৫৪৩ এবং রাজ্যসভার ২৪৫ আসন মিলিয়ে ভারতের সংসদে মোট আসনসংখ্যা ৭৮৮। কিন্তু রাজ্যসভায় ছ’টি এবং লোকসভায় একটি আসন এখন শূন্য রয়েছে। তাই মোট ৭৮১ জন সাংসদকে নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করা হয়। নবীন পট্টনায়কের দল বিজেডি এবং কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের দল বিআরএস এই নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে আগেই ঘোষণা করেছিল। ফলে ৭৭০টির বেশি ভোট পড়া যে সম্ভব নয়, তা তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সে ক্ষেত্রে কোনও প্রার্থী ৩৮৬টি ভোট পেলেই যে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিতে যাবেন, তা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। পরে জানা যায় পঞ্জাবে বন্যার কারণে শিরোমণি অকালি দলের একমাত্র সাংসদ হরসিমরৎ কউর বাদলও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন না। সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে যে সাত নির্দল সাংসদ রয়েছেন, তাঁরা কী করবেন, তাও স্পষ্ট ছিল না। ফলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা আরও নীচে নামার সম্ভাবনাও ছিল। লোকসভায় এনডিএ-র আসনসংখ্যা ২৯৩, আর রাজ্যসভায় ১৩২। অর্থাৎ দুয়ে মিলে ৪২৫। তাই এনডিএ প্রার্থী তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন রাজ্যপাল রাধাকৃষ্ণণের জয় নিয়ে কোনও মহলেই সংশয় ছিল না।
তার উপরে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁর দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস সমর্থন করবে এনডিএ প্রার্থীকে। আম আদমি পার্টির বিক্ষুব্ধ সাংসদ স্বাতী মালিওয়ালও এনডিএ প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারেন বলে জল্পনা ছিল। ফলে এনডিএ-র হাতে খাতায়কলমে যে সংখ্যা রয়েছে, রাধাকৃষ্ণণ তার চেয়ে বেশি ভোট পাবেন বলেই আভাস পাওয়া গিয়েছিল।






