
এখন খামখেয়ালি আবহাওয়ার সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে শরীরে নাজেহাল দশা। মরসুম বদলের এই সময়ে যেমন ভাইরাল জ্বর কাবু করছে,তেমনি ঠান্ডা-গরমে অস্থির। বিষফোড়ার মতো আছে হাঁপানি। এক বার টান উঠলে কখনও চিনচিনে ব্যথা, কখনও দমবন্ধ, হাঁসফাঁস অবস্থা। ঘুমোতে গেলেই বুকের ভেতর সাঁই সাঁই শব্দ।
শ্বাস নিতে গেলে কাশির দমকে অস্থির। ঘন ঘন বুকে কফ, লাগামছাড়া হাঁচি, ইনহেলার না নিলে গতি নেই। এদিকে হাঁপানির টান যখন তখন উঠতে পারে। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে শুধু ওষুধ খেলে বা ইনহেলার নিলে হবে না, সঙ্গে ফুসফুসের কিছু ব্যায়াম করাও জরুরি।উষ্ট্রাসন যোগাসনের এমন এক পদ্ধতি যা ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা থাকলে বা সিওপিডিতে ভুগলে, এই আসনটি রোজ করলে উপকার পাবেন।এবার প্রশ্ন হলো,কী ভাবে করবেন? প্রথমে ম্যাটের উপর হাঁটু মুড়ে বসুন। এ বার পিছনের দিকে খানিকটা হেলে হাত দু’টি দিয়ে গোড়ালি ধরুন। এর পর মাথা পিছনের দিকে ঝুলিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে পেটের অংশটা সামনের দিকে এগিয়ে দিন।তারপর ডান হাতের বুড়ো আঙুলটি ডান দিকের গোড়ালির ভিতর দিকে রেখে বাকি সব আঙুল বাইরের দিকে রাখুন। বাঁ দিকের ক্ষেত্রেও একই ভাবে রাখুন।পায়ের পাতা মাটিতে থাকবে। আসনটি করার সময় স্বাভাবিক ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিন। ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।বলা হয়, এই আসন শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে, মেরুদণ্ডকে শক্তপোক্ত করে।পিঠ, কোমর, হাত ও পায়ের পেশিকে শক্তিশালী করে তোলে।
ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এই আসন। নিয়মিত অভ্যাসে শ্বাসজনিত যে কোনও অসুখ থেকে রেহাই মিলবে। হাঁপানি বা সিওপিডির সমস্যা থাকলে তা কমবে।মনের অস্থিরতা কমায়, মনঃসংযোগে সাহায্য করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এই আসন উপযোগী।তবে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হলে এই আসন করা যাবে না।এবং হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার হলে আসনটি না করাই ভাল।









