
আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি সমর্থন না-করায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই আবহে আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইইউ – এর সদস্য দেশগুলি ‘ট্রেড বাজুকা’ বা ‘শুল্ক-ব্রহ্মাস্ত্র’ প্রয়োগ করতে চলেছে। রবিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেল্সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দফতরে একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে ওই দেশগুলির প্রতিনিধিরা ‘ট্রেড বাজ়ুকা’ বা ‘শুল্ক-ব্রহ্মাস্ত্র’ প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। রবিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এই ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রয়োগ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রথম বারের জন্য ইইউ-র ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রয়োগ করার সময় এসে গিয়েছে। ‘ট্রেড বাজুকা’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে থাকা একটি বন্দোবস্ত যার দ্বারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয় এই রকম এক বা একাধিক দেশ অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করলে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ এই অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশ বা দেশগুলির উপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে হাঁটতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। উল্লেখ্য , এর আগে কখনও এই অস্ত্র প্রয়োগ করেনি তারা। রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথ সোশালে একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এবার থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ড থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। এই শুল্ক লাগু হবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেছেন, বিশ্বশান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য এই শুল্ক চাপানো অত্যন্ত জরুরি ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তাঁর মনের মতো চুক্তি না হয় তবে ১ জুন থেকে মার্কিন মুলুকে ডেনমার্ক থেকে আসা পণ্যের উপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের হুমকির পরে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন , আমেরিকা যদি হামলা চালায়, তা হলে সেই মুহূর্তেই ন্যাটো ভেঙে যাবে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সংঘাত চরমে পৌঁছাতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।









