
ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিও ক্যামেরুনে পৌঁছেছেন। আফ্রিকার চারটি দেশ সফরের ১০ দিনের এই ট্যুরের দ্বিতীয় ধাপে তিনি দেশটির ইংরেজিভাষী অঞ্চলে সংঘাত নিরসনে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে তিনি আলজেরিয়া সফর শেষ করেছেন। সেখানে তিনি নব্য ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমালোচনা করেছেন। পরে আলজিয়ার্স থেকে রওনা হয়ে ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্ডেতে পৌঁছান। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জাতীয় নেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।উল্লেখ্য,ক্যামেরুন একসময়ে জার্মান উপনিবেশ ছিল, পরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে বিভক্ত হয়। গত এক দশকে দেশটির দুটি ইংরেজিভাষী অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে সংঘাতে হাজারও মানুষ নিহত হয়েছেন।পোপের সফর উপলক্ষে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী জোট তিন দিনের জন্য নিরাপদ চলাচল ঘোষণা করেছে, যাতে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা অবাধে চলাচল করতে পারেন।অন্যদিকে,শিকাগোতে জন্ম নেওয়া ৭০ বছর বয়সী পোপ লিও গত মে মাসে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন সদস্যের ক্যাথলিক চার্চের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০ মাস তিনি তুলনামূলকভাবে নীরব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়েছেন। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের কড়া সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।এ কারণে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভয়াবহ বলে আখ্যা দেন এবং পরে আবারও সেই সমালোচনা পুনরাবৃত্তি করেন, যদিও এতে আমেরিকার খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে পোপ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধের সমালোচনা চালিয়ে যাবেন।
এদিকে,পোপ লিওর এই আফ্রিকা সফরকে সাম্প্রতিক দশকের সবচেয়ে জটিল সফরগুলোর একটি বলা হচ্ছে। তিনি প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করবেন। ১৮টি ফ্লাইটে ১১টি শহর ও অঞ্চল সফর করবেন। এই সফরে তিনি অ্যাংলোয়া ও ইকুয়াটোরিয়াল গিনিয়াতেও যাবেন।









