
মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ: রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহার
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, যিনি দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেতা, সম্প্রতি আমেরিকাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এর দ্বারা রাষ্ট্রীয় তহবিল ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যুবরাজ ২০১৭ সাল থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে ভিন্ন মতাবলম্বী ব্যবসায়ী এবং ধনকুবেরদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছেন।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আড়ালে আসল উদ্দেশ্য
২০১৭ সালে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদের কাছ থেকে নির্বাহী ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকেই মোহাম্মদ বিন সালমান বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানোর নামে অনেক ব্যবসায়ীর কোম্পানি এবং সম্পত্তি জব্দ করেছেন। পরে এসব সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় তহবিল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে (পিআইএফ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে পিআইএফ-এর সম্পদের পরিমাণ এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে—৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার থেকে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।
পিআইএফ-এর নিয়ন্ত্রণ এবং যুবরাজের কর্তৃত্ব
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পিআইএফ-এর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে রয়েছে। তিনি একাই সিদ্ধান্ত নেন এই তহবিলের অর্থ কোথায় ব্যয় হবে এবং কীভাবে তা পরিচালিত হবে। এভাবে তার ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও প্রভাব ফেলছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রশ্ন উঠছে—এই ধরনের কার্যকলাপ কি সত্যিই দেশের জন্য কল্যাণকর? নাকি এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কৌশল?









