
পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা চলাকালীন জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই ঘটনাকে আদালতের উপরই হামলা বলে মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ – কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতেই তুলে দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, মালদহের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার-কে শো কজ় করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তাঁদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের জানাতে হবে, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির চিঠির প্রেক্ষিতে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না। আদালত জানিয়েছে, বিচারকদের উপর হামলা শুধু আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সরাসরি বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত, কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না। উল্লেখ্য বুধবার রাতে,মালদহে মোথাবাড়ি এলাকায় এস আই আর-এর কাজে নিযুক্ত ৭ বিচারককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখা হয়। তাঁদের উদ্ধার করে ফেরানোর সময়ে গাড়ির উপর ইট পাটকেল ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। ৭ জন বিচারকের মধ্যে মধ্যে তিনজন ছিলেন মহিলা। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের চিঠির ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি ওই বিচারকদের খাবার ও জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, এটি প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। এমনকি মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলেও আদালত উল্লেখ করে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেছেন, এই ঘটনা কোনওমতেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি কার্যত সুপ্রিম কোর্টের উপরই আক্রমণের সমান, কারণ বিচারকরা আদালতের নির্দেশেই কাজ করছিলেন। শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তোলা হয়। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা ,যাঁরা বিচারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরা আদালতের প্রসারিত হাত। তাঁদের ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়া মানে বিচারব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ করা। আর সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিতেই তৈরি সর্বোচ্চ আদালত।






