
সিনেমার প্রচার নিয়েই আস্ত এক সিনেমা তৈরি হয়ে যাওয়ার জোগাড়। রিলিজের প্রাক্কালে তারকাদের অভিনব প্রচারকৌশলী নতুন নয়। তাই বলে আতঙ্কের আবহ সৃষ্টি করে সমাজ সচেতনতামূলক সিনেমার প্রচার?
এহেন উদাহরণ সিনেদুনিয়ার ইতিহাসে সম্ভবত বিরল, তবে সম্প্রতি এমন ঘটনাই নাড়িয়ে দিয়েছে দিল্লির পুলিশ প্রশাসনকে। যে দেশে পূজিতা নারীশক্তি, সেই মাটিতেই নারীর অবমাননা? কেরিয়ারের তিন দশক পূর্তিতে এহেন প্রশ্ন তুলেই মর্দানি থ্রি ছবি রিলিজ করেছিলেন রানি মুখোপাধ্যায়। যেখানে নারীপাচার রুখতে দোর্দণ্ডপ্রতাপ পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় রণংদেহি মেজাজে নজর কাড়েন অভিনেত্রী। কিন্তু নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজ সচেতনামূলক বার্তা দিতে সোশাল পাড়ার ভাইরাল মিসিং ডায়েরি ঘাঁটতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় দিল্লি পুলিশের। জানুয়ারি মাসের গোড়া থেকে সোশাল মিডিয়ায় এমন কিছু পোস্ট ভাইরাল হয় যেখানে দাবি করা হয়েছে, দিল্লি থেকে আচমকাই শয়ে শয়ে শিশু, কিশোর-কিশোরী, এমনকি তরুণ-তরুণীরা কর্পূরের মতো উবে যাচ্ছে। সেসব পোস্ট দাবানলের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই এহেন খবরে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয় রাজধানীতে।এরপরই নড়েচড়ে বসে দিল্লি পুলিশ। সোশাল মিডিয়ার যাবতীয় পোস্ট-নথি ঘেঁটে যে টিকি পাওয়া যায়, তাতে সমূহ পুলিশ প্রশাসনের হতবাক হওয়ার জোগাড়। ইতিমধ্যেই অনেকে এহেন পোস্টে বলিউড সিনেমা মর্দানি থ্রি-এর সঙ্গে সাযুজ্য খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছিলেন।সেসমস্ত পোস্টকে সম্বল করেই মিসিং লিংক খুঁজতে মাঠে নেমে পড়ে দিল্লি পুলিশ। তদন্ত এগোতেই জানা যায়, এহেন কর্মকাণ্ড আদতে এক সিনেমার প্রচারের জন্য।
উল্লেখ্য,গত ১০ জানুয়ারি যশরাজ ফিল্মসের তরফে মর্দানি থ্রি -এর প্রথম প্রচারঝলক প্রকাশ্যে আনা হয়। ঠিক তারপর থেকেই প্রথমে মুম্বইতে এবং তার কিছুদিনের মধ্যে দিল্লিতেও শয়ে শয়ে মানুষের উধাও হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এবং এই গোটা বিষয়টাই টাকা দিয়ে করানো হয়েছে বলে দাবি। এরপরই দিল্লি পুলিশের তরফে আমজনতাকে সতর্ক করে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কেউ যেন আতঙ্কিত না হন।









