
অভিনেতা দেব আনন্দ এবং প্রখ্যাত গায়ক-নায়ক কিশোর কুমারকেও জরুরি অবস্থার সময় রেয়াত করেনি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। রাজ্যসভায় জবাবি ভাষণ চলাকালীন এভাবেই আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, জরুরিকালীন সময়ে কংগ্রেসের পক্ষ না নেওয়ায় এবং কংগ্রেসের নির্দেশ না মানায় এই দুই ভুবনবিখ্যাত শিল্পীকে মাশুল গুনতে হয়েছিল। মোদী বলেন, কংগ্রেস কীভাবে ক্ষমতার লালসায় গদিতে টিকে থাকার জন্য সংবিধানের নীতি-আদর্শকে ধ্বংস করেছিল তা সকলেই জানেন। জরুরি অবস্থার সময় তৎকালের বিখ্যাত নায়ক দেব আনন্দজিকে কংগ্রেস জরুরি অবস্থা সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু, দেব আনন্দজি ওদের সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন। আর এই কারণেই দেব আনন্দজির সমস্ত ছবি দূরদর্শনে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মোদীর শ্লেষ, আর এই দলই এখন সংবিধান রক্ষার কথা বলে। বছরের পর বছর ধরে এরাই সংবিধানকে পকেটে পুরে রেখে দিয়েছিল। কিশোর কুমারজি কংগ্রেসের হয়ে গান গাইতে অস্বীকার করেছিলেন। তারপরই তাঁকে অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। তাঁর গান আর শোনানো হতো না রেডিওতে। শুধু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী সঞ্জয় গান্ধীই নন, মোদী প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর জমানার কথাও টেনে আনেন। তিনি বলেন, মুম্বইয়ে একটি শ্রমিক ধর্মঘট হয়েছিল। সেই ধর্মঘটে বিখ্যাত কবি মজরুহ্ সুলতানপুরী একটি কবিতা পাঠ করেছিলেন। তারপর তাঁকে জেলে পাঠানো হয়। বিখ্যাত অভিনেতা বলরাজ সাহনিকেও জেলে পাঠিয়েছিল।
লতা মঙ্গেশকরের ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর একটি কবিতা লিখেছিলেন বীর সাভারকরকে নিয়ে এবং আকাশবাণীতে গাইতে চেয়েছিলেন। তাঁকেও সারা জীবনের মতো আকাশবাণী থেকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল কংগ্রেস সরকার।









