
চলতি এপ্রিল মাসেই, বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল একই সঙ্গে হতে পারে বলে রাজধানী দিল্লির খবর।
একইসঙ্গে বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় পদাধিকারীদের নামের তালিকা ঘোষণা হবে। তৃতীয়বারের মোদি মন্ত্রিসভায় প্রথম কোনও মুসলিম মুখ-কে জায়গা দেওয়া হতে পারে এমন সম্ভাবনাও প্রবল। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় নতুন ওয়াকফ আইন নিয়ে বিরোধিতা চলছে। নতুন আইন নিয়ে জোরালো সওয়াল করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। প্রধানমন্ত্রী মোদি মন্ত্রিসভায় যে একজনও মুসলিম মুখ নেই তা উল্লেখ করে বিরোধীরা বারবরাই সমালোচনা করে থাকে।সেই সব কিছু সামলাতেই কোন মুসলিমকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বস্তুতঃ বিজেপির পরবর্তী সভাপতির নাম চূড়ান্ত হওয়ার আগেই, রাজধানী দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।খবর,বিজেপির সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছেন নরেন্দ্র মোদীরা।সেই দৌড়ে নাম এসেছে বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের।পাশাপাশি নতুন কোনও মুখকে তাঁর পরিবর্তে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হয়েছে।কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সংখ্যালঘু সমাজের ব্যক্তিকে নিয়ে আসার কথা ভাবছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। আর তা হলে মুখতার আব্বাস নকভির পরে ফের কোনও মুসলিম নেতা মোদী মন্ত্রিসভায় জায়গা নিতে চলেছেন। খবর,সংখ্যালঘু মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বিজেপির নেতা ও রাজ্যসভার মনোনীত সাংসদ গুলাম আলি খটানা।এ ছাড়াও দৌড়ে রয়েছেন জামাল সিদ্দিকি।জামাল বর্তমানে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি। কিন্তু তাঁকে প্রতিমন্ত্রী করা হলে সে ক্ষেত্রে কোনও রাজ্য থেকে সাংসদ হিসেবে জিতিয়ে আনতে হবে বিজেপিকে।
এদিকে, চলতি এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই বিজেপির নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা হওয়ার কথা। তার মাঝেই ক দিন আগে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও এক ঘণ্টার বৈঠকই মন্ত্রিসভার রদবদলের জল্পনা উসকে দিয়েছে।আবার সেই একই সময়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়েছে। যা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলের জল্পনায় আরও গতি দিয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরেই বিহারের বিধানসভা ভোট রয়েছে।
তাই চলতি মাসেই দলের সভাপতি বেছে নেওয়ার কাজ সেরে ফেলতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু দলের বর্তমান সভাপতি জেপি নড্ডার বাড়িতে অমিত শাহ ও রাজনাথ সিংহের দীর্ঘ বৈঠক, প্রায় একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ,পাশাপাশি প্রতি বুধবার হওয়া মন্ত্রিসভার বৈঠক বাতিল করে দেওয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জম্মু-কাশ্মীর সফর বাতিল করে দেওয়া মন্ত্রিসভার রদবদলের সম্ভাবনাকে জোরাল করেছে।
বিজেপি সূত্রের মতে, শেষ পর্যন্ত সম্ভবত দলের সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে মনোহরলাল খট্টরকেই। হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর দলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। মনোহরলাল খট্টর ও নরেন্দ্র মোদী আরএসএসের প্রচারক হিসেবে দীর্ঘ সময় এক সঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে,মনোহরলাল খট্টর সংঘপরিবারের লোক,তিনি বিজেপি;র সভাপতি হলে আরএসএসের আপত্তি থাকার কথা নয়।
সব মিলিয়ে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ জাতীয় রাজনীতি এবং দেশের শাসকদল বিজেপি-র ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে ,এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।









