গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

33 C
Kolkata
33 C
Kolkata
More
    Home Editorial বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে হাসিনা জড়িত : রাষ্ট্রপুঞ্জ

    বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে হাসিনা জড়িত : রাষ্ট্রপুঞ্জ

    0
    2361
    ছবি সৌজন্যে : প্রতিনিধিত্বমূলক

    বাংলাদেশের গদিচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সম্ভবত মানবতাবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিল বলে মনে করে রাষ্ট্রপুঞ্জ।গত বছরের জুলাই-অগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনপর্বে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সরকারের মদতে পরিকল্পিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে প্রকাশিত রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

    রিপোর্ট প্রকাশ করে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেছেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার নৃশংস পদক্ষেপ করেছিল।উল্লেখ্য ৫ অগস্ট জনবিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রীপদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা। তার পরেই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন,মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং আওয়ামী লীগ-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ-এর অভিযোগে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়েছিল শেখ হাসিনা-সহ প্রাক্তন মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে।এর পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে এসেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম।কোটা সংস্কার আন্দোলনপর্বের প্রত্য়ক্ষদর্শী এবং নির্যাতিতদের সঙ্গে কথাও বলেন ওই দলের সদস্যেরা। সে সময় শেখ হাসিনা সরকার প্রতিবাদীদের উপর নিয়মতান্ত্রিক দমনপীড়ন চালিয়েছিল বলে রিপোর্টে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধিরা। লেখা হয়েছে,শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আগে তাঁর সরকার শয়ে শয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা চালিয়েছে।খুনের জন্য় সরকার বাহিনীর পাশাপাশি রিপোর্টে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলকেও নিশানা করা হয়েছে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম-এর রিপোর্টে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ অগস্টের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী ঘটনা ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্ক তথ্য রয়েছে। কিন্তু ৫ অগস্টই বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা।ইউনূসের সরকারের তরফে রাষ্ট্রপুঞ্জকে জানানো হয়েছে,জুলাই-অগস্ট আন্দোলনপর্বে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার খুন করেছিল ১৪০০ জনকে, সে প্রসঙ্গও উল্লিখিত হয়েছে রিপোর্টে।রাষ্ট্রপুঞ্জের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম বলেছে, বিক্ষোভ দমন করার কৌশলের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্তাদের জ্ঞাতসারে, তাদের সমন্বয় ও নির্দেশে শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক এবং নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।ভলকার তুর্ক বলেছেন, যে সাক্ষ্য এবং প্রমাণ তাঁরা সংগ্রহ করেছেন তা ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর এবং যা আন্তর্জাতিক অপরাধও গঠন করতে পারে।

    জাতীয় নিরাময় এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়বিচার অপরিহার্য।রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাক্তন সরকার এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংস উপাদানগুলোর পাশাপাশি, গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় পদ্ধতিগতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাসমূহের সাথে জড়িত ছিল।